কোনো ডিলার আমাকে অভিযোগ দেননি। ডিলারদের লিখিত অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিত্যানন্দ কুণ্ডু, খাদ্যনিয়ন্ত্রক, যশোর

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ডিলার অভিযোগ করেন, চাল উত্তোলন করতে একজন ডিলারকে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মীনা খানমকে প্রতিবার ডিওপ্রতি ১ হাজার টাকা, ভোক্তাদের তালিকার জন্য ৫০০ টাকা এবং চাল দেওয়ার সময় খাদ্যনিয়ন্ত্রক তদারকে গেলে তাঁকে ১ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। 

তাঁরা অভিযোগ করেন, এর আগে খাদ্যগুদাম থেকে ৩০ কেজি চাল ভর্তি বস্তা সরবরাহ করা হতো। ওই বস্তা সরাসরি ভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হতো। কিন্তু চলতি মাসে ৫০ কেজির চাল ভর্তি বস্তা সরবরাহ করা হচ্ছে। এ জন্য উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসীম কুমার মণ্ডলকে ডিলারপ্রতি তিন হাজার টাকা করে দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া ওই কর্মকর্তাকে ডিওপ্রতি ৫০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। চলতি মাসে পরিবর্তন করে নতুন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাঁরা ট্যাগ অফিসার ছিলেন, তাঁরা তদারকে গেলে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে দিতে হয়েছে এবং দুপুরের খাবার দিতে হয়েছে। 

উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের একজন ডিলার বলেন, ‘উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মীনা খানমকে ও খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসীম কুমার মণ্ডলকে নিয়মিত টাকা দিতে হচ্ছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্যাগ অফিসারকে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে এবং দুপুরের লাঞ্চ করাতে হয়েছে। দুই অফিসে ঘুষ দিতে দিতে জেরবার হয়ে যাচ্ছি।’

চলিশিয়া ইউনিয়নের একজন ডিলার বলেন, ‘উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের অফিস সহকারী এবং খাদ্যগুদামের দারোয়ানের মাধ্যমে ঘুষ আদায় করা হয়। এবার অনেক বলে-কয়ে কিছু টাকা কম দিয়েছি।’

তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভয়নগর উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মীনা খানম। তিনি বলেন, ‘ডিলারদের অভিযোগ ঠিক নয়। আমার অফিসে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। টাকা না নিতে আমার অফিসে নির্দেশনা দেওয়া আছে।’

একইভাবে কথা বলেন উপজেলার খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসীম কুমার মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘বস্তার ওজনের পার্থক্যের জন্য কেন ডিলাররা টাকা দেবেন? ৩০ কেজির হোক, আর ৫০ কেজিরই হোক—সব চালের বস্তাই সরকারের। এখানে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ডিওপ্রতি ৫০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টিও সঠিক নয়। তবে ডিলাররা খুশি হয়ে গুদামের কর্মচারীদের কিছু বকশিশ দিয়েছেন কি না, সেটা আমার জানা নেই।’

যশোর জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুণ্ডু বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো ডিলার আমাকে অভিযোগ দেননি। ডিলারদের লিখিত অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রতিবছরের মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মোট পাঁচ মাস খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চলে। বর্তমানে ১৫ টাকা দরে ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। প্রকল্পের সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের তালিকা সঠিকভাবে তৈরি ও ডুপ্লিকেশন রোধ করতে ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত হতদরিদ্র ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা তৈরি করে উপজেলা কমিটিতে পাঠায় এবং উপজেলা কমিটি তা যাচাই করে অনুমোদন করে। এরপর কমিটি প্রতি পরিবারের একজনের নামে ছবিসহ কার্ড ইস্যু করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতি ও উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক সদস্যসচিব।