চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুই দিনেও মামলা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত যুবদল নেতার পরিবারের কেউ আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত মামলা করার জন্য থানায় আসেনি।
খুনের ঘটনার পর পুলিশ সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। তাঁর নাম মুহাম্মদ জাকির (৪২)। হত্যা মামলা না হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে গতকাল রোববার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত শনিবার বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে (৪৫)। তিনি উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী তাঁর বড় ভাই। পরিবারের সদস্যরা জানান, পরবর্তী নির্বাচনে মাসুদুল ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার বেলা দেড়টার দিকে পাঁচ কিলোমিটার দূরের রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চৌমুহনী বাজারে আসেন মাসুদুল। ৫ থেকে ৭ জন সন্ত্রাসী নিয়ে আরেকটি অটোরিকশা তাঁকে অনুসরণ করেই বাজারে আসে। মাসুদুল অটোরিকশা থেকে নেমে বাজারের একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়ান। এরপর অপর অটোরিকশা থেকে নেমে সন্ত্রাসীরা মাসুদুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিতে মাসুদের মাথার মগজ বেরিয়ে যায়।
নিহত মাসুদুলের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকেলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গতকালই জানাজা শেষে তাঁর লাশ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, লাশ দাফনের পর গতকাল সন্ধ্যায় মামলার জন্য নিহত মাসুদুলের পরিবার থানায় আসার কথা ছিল। তবে কেউ না আসায় মামলা হয়নি। আজ মামলা হবে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনার পর বাজার থেকে মুহাম্মদ জাকিরকে আটক করা হয়। তিনি স্থানীয় দোকানি। বাজারের সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আশা করি আজ সোমবার নিহত মাসুদুলের পরিবার মামলা করতে আসবে।’ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তাঁরা সবাই রাউজানের বাসিন্দা। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করে এরই মধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’