বনে গ্রাম্য সড়কের পাশে পড়ে ছিল মেছো বিড়াল
বিস্তৃত ভাওয়াল সবুজ বন। পাশ দিয়ে চলে গেছে গ্রাম্য সড়ক। এমন নির্মল পরিবেশে সড়কের পাশে দেখা গেল মরে পড়ে আছে একটি মেছো বিড়াল। সেটি ঘিরে গ্রামবাসীর কৌতূহল। পরে জানা গেছে, রাতের কোনো এক সময়ে অজ্ঞাত গাড়িচাপায় প্রাণ গেছে প্রাণীটির। আজ বুধবার সকাল ৯টায় গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নের ভেরামতলী গ্রামে বনের পাশের সড়কে এই গ্রাণীর মরদেহ পাওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক শিক্ষক জয়নাল আবেদীন এ সম্পর্কে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি মাওনা যাওয়ার সময় তাঁর বাড়ির পাশের একটি বনের অদূরে সড়কে মরে পড়ে থাকতে দেখেন মেছো বিড়ালটিকে। এর শরীরে ছোপ ছোপ কালো দাগ। কিছু অংশে বাদামি রঙের পশম। বিড়ালের চেয়ে বড় আকারের এই প্রাণী তাঁদের এলাকায় ‘মেছো বাঘ’ নামে পরিচিত। তিনি পরে জানতে পেরেছেন, গতকাল মঙ্গলবার রাতে একটি গাড়িতে চাপা পড়ে প্রণীটির প্রাণ গেছে।
বনাঞ্চলের বাসিন্দা হিসেবে এই শিক্ষকের ধারণা, খাবারের সন্ধানে মেছো বিড়ালটি লোকালয়ের দিকে যাচ্ছিল। এরপর হয়তো এটি গাড়িচাপায় পড়ে। সম্প্রতি এই সড়কে বেজি, গুইসাপসহ নানান প্রাণী মারা পড়তে দেখা গেছে। বনে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় এসব প্রাণী লোকালয়মুখী হচ্ছে।
ওই এলাকার বনবেষ্টিত দক্ষিণ বারোতোপা গ্রামের বাসিন্দা কবিরুল ইসলাম জানান, বনের প্রাণীগুলো বিভিন্ন কারণে প্রায়ই মারা যাচ্ছে। এই বনগুলো একসময় প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর ছিল। এগুলো রক্ষা করতে জনসচেতনতা দরকার। তিনি বলেন, সবাইকে সচেতন করতে পারলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।
গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা-কালিয়াকৈর আঞ্চলিক সড়কের শালদহপাড়া গ্রামে সড়কে একটি গর্ববতী হরিণের মৃত্যু হয়েছিল। ধারণা করা হয়, হরিণটি রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়িচাপায় পড়েছিল। এ ছাড়া ওই বনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বনে খাবারের সংকটের কারণে বিভিন্ন সময় অনেক প্রাণী বাইরে বের হয়ে আসে। সড়কে যানবাহনচাপায় অনেক প্রাণীর মৃত্যু ঘটে।
এ প্রসঙ্গে বন বিভাগের শ্রীপুর উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, তাঁরা ভেরামতলী গ্রামে একটি মেছো বিড়ালের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছেন। পরে খোঁজ নেওয়ার জন্য সেখানে বন বিভাগের লোক পাঠানো হয়েছে।