গাজীপুরে বিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে ছাত্রীর ভিডিও, ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার রাতে নিজেদের ঘর থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরিবার ও স্বজনদের দাবি, ওই ছাত্রীর বিদ্যালয়ের নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে তার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার জের ধরে সে আত্মহত্যা করেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, ওই উচ্চবিদ্যালয়ের নামে একটি ফেসবুক পেজ রয়েছে। এ পেজে ওই ছাত্রীর একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে শ্রেণিকক্ষে একটি ছেলেকে মেয়েটির হাত ধরতে দেখা যায়। এই ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে শুরু হয় নানা মন্তব্য। এতে ওই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মেয়েটি অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। সে কারও সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলছিল না; বেশির ভাগ সময় নিজেকে গুটিয়ে রাখছিল। একপর্যায়ে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাতে সে ঘরের দরজা খুলছিল না। একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে স্বজনেরা বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে ওড়নায় ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ দেখতে পায়।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা লাশ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান। ওই ক্যাম্পের উপপরিদর্শক সুরুজ জামান বলেন, ‘আমরাও শুনেছি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। তার পরিবার যদি অভিযোগ দেয়, তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিহত শিক্ষার্থীর এক চাচা জানান, বিদ্যালয়ের নামের একটি ফেসবুক পেজে মেয়েটির ব্যক্তিগত একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। বিষয়টি সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। নিজের মানসম্মান এবং মা–বাবার কথা ভেবে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। কীভাবে সে তাঁদের মুখোমুখি হবে, সে চিন্তায় দিশাহারা হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ‘ফেসবুকের ওই পেজের অ্যাডমিন ও মডারেটররা কেন ভিডিওটির সত্যতা যাচাই না করে সেটি প্রকাশের অনুমতি দিলেন? যদি এটি পোস্ট করা না হতো তবে আজ আমাদের ভাতিজিকে হরাতে হতো না।’