বিএনপির প্রার্থীর পরাজয়ের জেরে দলের দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার বিরুদ্ধে দলীয় অনৈক্য সৃষ্টির অভিযোগ তুলে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন দুই উপজেলা বিএনপির নেতারা। রোববার দুপুরে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব মিলনায়তনেছবি: প্রথম আলো

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানার পরাজয়ের জেরে কথার লড়াইয়ে নেমেছে দলের দুই পক্ষ। তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে।

আজ রোববার বেলা সাড়ে তিনটায় ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে দুই উপজেলা বিএনপির নেতারা যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে সাবিরা সুলতানাকে দলীয় বিভক্তি সৃষ্টির জন্য দায়ী করেছে। তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছেন সাবিরা সুলতানা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দলীয় প্রার্থীর সমালোচনা করে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান (সামাদ নিপুন) বলেন, ‘সাবিরা সুলতানা বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলামের (তাঁর স্বামী) হত্যার আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করেছেন। কিন্তু তিনি নাজমুল হত্যার বিচার দাবি করেননি। তিনি রাজনীতিতে অদূরদর্শী, অজ্ঞ ও অদক্ষ। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন না করে একের একের এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতারা দলে জায়গা পাননি। যে কারণে নেতা-কর্মীরা তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন। তারপরও আমরা নির্বাচনে তাঁর পক্ষে কাজ করেছি। কিন্তু তিনি আমাদের সবাইকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখেছেন। ফলে তিনি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এখন নিজের ব্যর্থতার দায় আমাদের ঘাড়ে চাপাতে চান। তিনি কেন্দ্রে ও গণমাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন, যা দলের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোর্তজা এলাহী, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জহিরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সাধারণ সম্পাদকের এমন দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে পরাজিত প্রার্থী ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানা বলেন, ‘যারা সংবাদ সম্মেলন করেছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে আমাকে পরাজিত করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছে। তাঁদের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা চৌগাছা বিএনপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। ব্যালটে তাঁর নাম ছিল। তিনি কিছু ভোটও পেয়েছেন।’

সাবিরা সুলতানা আরও বলেন, ‘তাঁরা বিশেষ বিশেষ সময়ে দলের বিপক্ষে কাজ করেন। ৫ আগস্টের আগে তাঁরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশে কাজ করেছেন। পরে এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদকসহ নানা অপকর্মে জড়িত ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছেন। দফায় দফায় জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক করে আর্থিক লেনদেন করেছেন। দল আমাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করেই মনোনয়ন দেয়। আমি নির্বাচিত হলে তাঁদের অনৈতিক কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এ আশঙ্কায় তাঁরা নির্বাচনে আমার বিরোধিতা করেছেন।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে যশোর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা জামায়াতের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দীন ফরিদের কাছে পরাজিত হন। এরপর দুই উপজেলায় দলের এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছে। এর মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিল। এমন পরিস্থিতিতে সামনে উপজেলা পরিষদ, পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে আমরা পরাজিত হয়েছি। আমাদের দলের মধ্যে বিভক্তির কারণে সামনে স্থানীয় নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে। এই নির্বাচনে আমরা বিভক্তি বাদ দিয়ে আবার মিলেমিশে রাজনীতিতে পথ চলতে চাই।’

এ বিষয়ে সাবিরা সুলতানা বলেন, ‘দলের মধ্যে অনৈক্য থাকলে তৃণমূলে প্রভাব তো পড়েই। আমাদের কাছে যেকোনো নির্বাচনই গুরুত্বপূর্ণ। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আমাকে যখন যে নির্দেশনা দিয়েছে, আমি তা অনুসরণ করেছি। আওয়ামী লীগের সময়ে যখন কথা বলা যেত না, তখন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি জয়ী হয়েছি। নির্বাচনের মাধ্যমে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হয়েছি। স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আমি শিগগিরই সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করব।’