রেলওয়ের এক প্রকৌশলীর কাছে নিয়মের বাইরে কাজ দাবি করে তাঁকে নাজেহাল করার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার মোহাম্মদ রাজীবুল হকের বিরুদ্ধে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আজ রোববার তিনি ওই প্রকৌশলীর কাছে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ রয়েছে, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীতে রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজের কার্যালয়ে যান খন্দকার মোহাম্মদ রাজীবুল হক। সেখানে তিনি একটি কাজ দেওয়ার দাবি জানান। প্রকৌশলী তাঁকে বলেন, নিয়মের বাইরে কাউকে কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই। কাজ পেতে হলে দরপত্রে অংশ নিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
রেলওয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, দুই বছর ধরে কোনো কাজ না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে খন্দকার মোহাম্মদ রাজীবুল হক প্রকৌশলীর কাছে বিনা দরপত্রে কাজ দাবি করেন। কিন্তু প্রকৌশলী নিয়মের বাইরে কাজ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট পর কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আবার সেখানে আসেন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এ সময় তিনি প্রকৌশলীকে হুমকি–ধমকি দেন। তাঁর ল্যাপটপের পাওয়ার সুইচ বন্ধ করে দেন এবং হাত থেকে মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কার্যালয়ে উপস্থিত কর্মচারীরা তাঁদের নিবৃত্ত করেন।
ঘটনাটি শনিবার জানাজানি হলে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, নিয়মের বাইরে কাউকে কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই; কিন্তু কাজ দেওয়ার দাবিতে ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণ ও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
তবে খন্দকার মোহাম্মদ রাজীবুল হক এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, একটি কাজের বিল নিয়ে প্রকৌশলীর সঙ্গে ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছিল। হয়তো প্রকৌশলী তাঁর কথা বুঝতে পারেননি। পরে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বসে দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছে।
রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ওই ঠিকাদার তাঁর ভুল স্বীকার করেছেন। বিষয়টি এখন মীমাংসা হয়েছে। তাই আপাতত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।