নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, তাঁরা এই মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করেছেন। দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

হত্যাকাণ্ডের পর এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. সনির একটি তরবারি হাতে টিকটক ভিডিও সবার নজরে আসে। ভিডিওটি সে খুন হওয়ার ২০ দিন আগে প্রকাশ করেছিল, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও থেকে তাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ‘কিশোর গ্যাং’–এর দ্বন্দ্ব বিষয়টি সামনে আসে। হত্যাকাণ্ডের পর রাজশাহী নগরে উঠতি বয়সীদের নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা শুরু করে বাহিনীটি।

টিকটকের জন্য ধারণ করা ভিডিওটি গত ১৪ জুন সনি তার ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, তরবারি নিয়ে সে হেঁটে যাচ্ছে। তার পেছনে সমবয়সী আরেক কিশোর। পুলিশ বলছে, এ ভিডিওকে সনির প্রতিপক্ষ মঈন গ্রুপ নিজেদের জন্য হুমকি মনে করে।

হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব বলেছিল, প্রধান আসামি মঈন ওরফে আন্নাফ (২০) মঈন গ্রুপের প্রধান। এই গ্রুপের সঙ্গে সনির গ্রুপের বিরোধের জেরে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঈন গ্রুপ রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়। এ বিরোধের জেরে মঈন গ্রুপ সনিকে টার্গেট করে শহরের বিভিন্ন জায়গায় তার ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল।

পুলিশ বলছে, সনি ও মঈন গ্রুপের মধ্যে বিরোধ পুরোনো। সনি গ্রুপ গত ঈদুল ফিতরের সময় শহরের আরডিএ মার্কেটের ভেতর মঈন গ্রুপের ওপর হামলা করে। একজনকে কুপিয়ে জখম করে। তার শরীরে ১৮টি সেলাই পড়ে। এ ঘটনায় সনির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। এর আগে অন্য আরেকটি গ্রুপের সঙ্গে মারামারির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছিল। এ দুটি মামলার পর কিছুদিন গা ঢাকা দিয়েছিল সনি। সম্প্রতি মঈন গ্রুপের সঙ্গে মীমাংসা হয়। সে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে শুরু করে। এর মধ্যে গত ১৪ জুন সনির তরবারি হাতে ওই টিকটক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, মঈন গ্রুপ নিজেদের জন্য হুমকি মনে করে। এর ২০ দিনের মাথায় সনি খুন হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন