ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম তৌকিবুল হক। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলায়। এ ঘটনায় তাঁর দুই বন্ধু অংকুর পাল, জুনায়েদ আল ইফতিও হেনস্তার শিকার হন।

এ ঘটনায় শুরুতে তৌকিবুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলফাত সায়েম ওরফে জেমস, জিয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, আইবিএ ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অমিত সাহাসহ কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে গতকাল মঙ্গলবার তৌকিবুল প্রথম আলোকে বলেন, আসলে ছাত্রলীগের কেউ তাঁদের টাকা ছিনিয়ে নেননি। বহিরাগত ব্যক্তিরা ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে এ কাজ করেছেন।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় তৌকিবুল হক সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর নিজস্ব ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে সাতটি বাস ভর্তি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে রাজশাহীতে এসেছে। তিনটি বাস শেখ রাসেল স্কুলের পাশে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি বাসের চালক তাঁকে মুঠোফোনে জানান, তাঁর কাছে কয়েক তরুণ টাকা দাবি করেছেন।

তৌকিবুল হক বলেন, ‘আমি তো বুঝছি যে আসলে ছাত্রলীগ আসছে। আমি নিজেও চট্টগ্রাম মহানগরে রাজনীতি করছি। এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করি। তাই, আমি সেখানে গিয়ে প্রথমেই পরিচয় দিয়েছি যে আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের একজন কর্মী। তবু তাঁরা আমার কাছে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু টাকা চাওয়ার আগেই তাঁরা আমার গায়ে হাত তোলেন। আর অনেক রূঢ় ব্যবহার করেন।’

তৌকিবুল অভিযোগ করে বলেন, ওই তরুণেরা ছাত্রলীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে তাঁকে শেখ রাসেল স্কুলের পাশ থেকে মোটরসাইকেলে করে শিক্ষকদের কোয়ার্টারের পেছনে নিয়ে যান। এরপর ওই তরুণেরা জোর করে তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্টে থাকা ৯ হাজার ৭০০ টাকা, নগদের ১ হাজার ৩০০ আর মানিব্যাগ থেকে ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে তাঁরা আরও ৫ হাজার টাকা নিয়ে আসার জন্য ফেরত পাঠান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনার পর তৌকিবুল ও তাঁর বন্ধুরা বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। পরে সন্ধ্যার পর প্রশাসন ভবনে ভুক্তভোগী ছাত্র, ছাত্রলীগের নেতারা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনায় বসে।

এ বিষয়ে আলফাত সায়েম বলেন, ‘তাঁরা (তৌকিবুল) কিন্তু আমাদের নামে অভিযোগ করেননি। এখানে একটা ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছে। আসলে বহিরাগত কয়েকজন ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে চাচ্ছিলেন। আমরা জানতে পেরে সেখানে গিয়ে মীমাংসা করে দিই।’
সন্ধ্যায় প্রশাসন ভবনে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা ভর্তি পরীক্ষা বিষয়েই সংগঠনের পক্ষ থেকে কথা বলতে গিয়েছিলাম।’

গতকাল দুপুরে তৌকিবুল হক ও তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা আগের অভিযোগ থেকে সরে আসেন। তৌকিবুল হক বলেন, ‘আসলে একটা ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমরা প্রথমে ছাত্রলীগকে দায়ী মনে করেছিলাম। পরে তাঁরাই আমাদের টাকা উদ্ধার করে দেন। আমরা তাঁদের প্রতি প্লিজড (কৃতজ্ঞ)।’

তবে টাকা কারা ফেরত দিয়েছেন, সে বিষয়ে ভুক্তভোগী কিংবা ছাত্রলীগ নেতারা কেউ কিছু বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হক বলেন, এক শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। এখন ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ততা চলছে। তাই পরে বিষয়টি দেখা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন