স্বামীকে বেঁধে রেখে নারী শ্রমিককে ইউপি সদস্যের ধর্ষণের অভিযোগ

ধর্ষণ
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্বামীকে বেঁধে রেখে এক নারী শ্রমিককে (৩০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রবিন চৌধুরী। তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলার একটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডের সদস্য। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ইউপি সদস্যের পরিত্যক্ত ঘরে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। ৯৯৯–এ খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানা–পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশিদ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে। শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার নারীর বাড়ি নোয়াখালীতে। সীতাকুণ্ডে একটি ভাড়া বাসায় তিনি স্বামীকে নিয়ে থাকতেন। দুজনেই ওইখানকার একটি সুতা তৈরির কারখানায় চাকরি করেন। ওই নারীর খালাতো ভাই সুজন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গত শনিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে তাঁর বোন ও বোনজামাই কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। রাত সোয়া ১০টার দিকে তাঁরা ইউপি সদস্য রবিন চৌধুরীর ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় চার-পাঁচজন লোককে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের গতিরোধ করেন ইউপি সদস্য রবিন চৌধুরী।

ঘটনার বর্ণনায় সুজন আহমেদ আরও বলেন, প্রথমে তাঁরা বোন-দুলাভাইয়ের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাঁদের রবিন চৌধুরীর পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ইউপি সদস্য রবিন চৌধুরী মাতাল অবস্থায় ছিলেন। রবিন চৌধুরী ও সহযোগীরা বোন ও দুলাভাইকে মারধর শুরু করে। বোনের গলায় থাকা সোনার চেইন ও কানের দুল নিয়ে যায় তারা। পরে রবিনের সহযোগীরা দুলাভাইকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। এ সময় বোনকে ধর্ষণ করেন রবিন চৌধুরী। ঘটনার পর মুঠোফোন হাতে পেয়ে বোন ৯৯৯–এ ফোন করেন। খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।

সীতাকুণ্ড থানার এসআই হারুনুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, এক নারী ধর্ষণের শিকার হওয়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে ওই নারীকে একটি ঝুপড়িঘর থেকে উদ্ধার করেন। এ সময় ওই নারীর শরীরে ধর্ষণের লক্ষণ পেয়ে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সীতাকুণ্ড থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ ফোন পেয়ে প্রথমে টহল পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে। ধর্ষণের খবর পেয়ে তিনিও ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ইউপি সদস্য রবিন চৌধুরী ও তাঁর সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় একটি ধর্ষণ মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য রবিন চৌধুরীর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর মাতাল অবস্থায় রবিন চৌধুরী ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মাদামবিবিরহাট এলাকায় একটি মসজিদে ফজরের নামাজের সময় মুসল্লিদের অশ্লীল গালাগাল করেন। মুসল্লিরা প্রতিবাদ জানালে তিনি মুসল্লিদের ওপর হামলা চালান। পরে একাধিক বৈঠকে বিষয়টির মীমাংসা হয়।