বৈরী আবহাওয়ার বিঘ্ন কাটিয়ে দুপুরের পর সদরঘাটে যাত্রীদের ভিড়
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের কর্মজীবী মানুষেরা ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনাল থেকে স্বস্তিতে লঞ্চযোগে বাড়িতে ফিরছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত যাত্রীর চাপ কম থাকলেও বিকেলের দিকে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ আজ দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকা নদীবন্দরের সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখে। পরে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবার লঞ্চ চলাচল শুরু হয়।
বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সদরঘাট থেকে ৫৬টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। একই সময়ে টার্মিনালে এসে পৌঁছেছে ৭৪টি লঞ্চ।
দুপুরে সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, হুলারহাট, ভান্ডারিয়া, বরগুনা, ভোলা, ইলিশা, আমতলী, চাঁদপুর, হাতিয়া, লালমোহন ও মুলাদী রুটে যাত্রীদের চাপ তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে অন্যান্য রুটে যাত্রীসংখ্যা কম ছিল। বৃষ্টি উপেক্ষা করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ পরিবার-পরিজন ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে টার্মিনালে আসছেন। এরপর নিজ নিজ লঞ্চে উঠে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রার অপেক্ষা করছেন।
মুলাদীগামী এমভি অভিযান-৫ লঞ্চের যাত্রী সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সকালে পরিবার নিয়ে সদরঘাটে এসেছি। আগের বছরের তুলনায় এবার টার্মিনালে ভিড় কম মনে হচ্ছে। এতে কিছুটা স্বস্তিতে লঞ্চে উঠতে পেরেছি। তবে বৃষ্টির কারণে কিছুটা কষ্ট হয়েছে। আশা করছি, নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছাতে পারব।’
চরফ্যাশনগামী এমভি ফারহান-৮ লঞ্চের যাত্রী সুজন বেপারী বলেন, ‘ঈদের আগে সাধারণত সদরঘাটে অনেক বেশি ভিড় থাকে। কিন্তু এবার চাপ কম থাকায় ঝামেলা ছাড়াই টার্মিনালে প্রবেশ করতে পেরেছি। পরিবার নিয়ে এসেছি, তাই ভিড় কম থাকায় স্বস্তি লাগছে। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় কিছুটা শঙ্কাও কাজ করছে।’
হিজলাগামী এমভি রাজহংস লঞ্চের যাত্রী কুলসুম বেগম বলেন, ‘সকাল থেকে বৃষ্টি হলেও বাড়িতে যাওয়ার জন্য ছোট সন্তানদের নিয়ে চলে এসেছি। টার্মিনালের পরিবেশ ভালো আছে। আল্লাহ ভরসা করে লঞ্চে উঠেছি, যেন নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছাতে পারি।’
অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাপ) সংস্থার সদস্য আবুল কালাম বলেন, ঈদের আর মাত্র এক দিন বাকি। পূর্বের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এবার যাত্রী কম মনে হচ্ছে। তবে আগামীকাল বুধবার চাপ বাড়তে পারে।
নৌ–পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা বলেন, লঞ্চযাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌ–পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। যাত্রীসেবায় তাঁরা সার্বক্ষণিক তৎপর আছেন।
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফউদ্দিন বলেন, নদীপথে লঞ্চযাত্রীদের সেবায় বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীবন্দরের সতর্কতা সংকেত মেনে লঞ্চ চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন করতে দেওয়া হবে না। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আজ ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর। এ সময় ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় এমভি ময়ূরী-১০ লঞ্চকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশরাফুল রহমান। তিনি বলেন, যেসব লঞ্চ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।