ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউ ইওএম) পর্যবেক্ষক আলেঙ্কা সার্নে ও মার্টিন সেরবেজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। আজ বুধবার দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) কার্যালয়ে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে তাঁরা ভোট গ্রহণের দিন বরিশালে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে তাঁদের পর্যবেক্ষণ ও নির্বাচন–সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
পর্যবেক্ষক আলেঙ্কা সার্নে বলেন, ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন ছিল নির্ভরযোগ্য ও সুপরিচালিত, যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁর মতে, নির্বাচনটি ছিল প্রকৃত অর্থেই প্রতিযোগিতামূলক, যেখানে মৌলিক স্বাধীনতাকে সম্মান করা হয়েছে।
আলেঙ্কা সার্নে আরও বলেন, নির্বাচনের আইনি কাঠামো অনেকাংশেই আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। এর ফলে অংশীজনদের আস্থা বজায় ছিল এবং নির্বাচনের সামগ্রিক সততা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে দুই পর্যবেক্ষক জানান, নির্বাচন ছিল সুশৃঙ্খল, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ। ভোটকেন্দ্র খোলা থেকে শুরু করে ভোট গ্রহণ ও গণনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের উপস্থিতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসারদের মাধ্যমে নিয়মিত ফলাফল প্রকাশ এবং গণমাধ্যমে তা প্রচার জনআস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এর পাশাপাশি একটি বিষয়ে ওই দুই পর্যবেক্ষক অসন্তুষ্টির কথা জানান। তাঁরা বলেন, নির্বাচনটি প্রকৃত অর্থেই প্রতিযোগিতামূলক হলেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণ সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত করা যায়নি, যা ভবিষ্যতে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।
তাঁরা জানান, তারা ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছে এবং নির্বাচনের দিন মোট ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মাঠে কাজ করেন। পর্যবেক্ষকেরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্য রাষ্ট্র ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে এসেছেন এবং দেশের ৬৪টি জেলায় তাঁরা স্থানীয়ভাবে নির্বাচন ও এ–সংক্রান্ত যাতীয় কার্যক্রম সরেজমিন থেকে পর্যবেক্ষণ করেন।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির (বিআরইউ) সভাপতি আনিসুর রহমান খান, সাবেক সভাপতি সুশান্ত ঘোষ, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম, সাংবাদিক জিয়াউল করিম, বিধান সরকার প্রমুখ। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বরিশাল নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ দত্ত।