কারাবন্দী ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী–সন্তানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা
বাগেরহাটে এক গৃহবধূ ও তাঁর শিশুসন্তানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আজ শনিবার হত্যা মামলা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে গৃহবধূ কানিজ সুবর্ণার (২২) ঝুলন্ত মরদেহ ও তাঁর ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসানের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কানিজ সুবর্ণা বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসানের স্ত্রী। জুয়েল বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে আছেন।
স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের ধারণা, কানিজ সুবর্ণা তাঁর শিশুসন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।
আজ শনিবার কানিজ সুবর্ণার বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন জানিয়ে বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান বলেন, মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শেষবারের মতো কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখলেন জুয়েল
আজ দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। পরে বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে লাশ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। মানবিক বিবেচনায় জুয়েলকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখার সুযোগ দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে সোয়া আটটার দিয়ে লাশ নিয়ে বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা হয় পরিবার। রাত ১১টায় জানাজা শেষে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হবে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মরেদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে জুয়েলের পরিবারের ছয় সদস্যকে কারা ফটকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।
জুয়েল হাসানের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, ‘জুয়েলের স্ত্রী ও সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি।’
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ আবিদ আহমেদ বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে কারাফটকে বন্দী জুয়েলের স্ত্রী ও সন্তানদের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার জেলা প্রশাসকের। জেলা প্রশাসকের চিঠির মাধ্যমে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই চিঠি তাঁদের কাছে ছিল না। সাধারণত অনুমতি না নিলেও কোনো কারাবন্দীর স্বজন মারা গেলে মরদেহ কারাফটকে আনা হলে আমরা মানবিক দিক বিবেচনায় দেখতে দিই।’
পরিবার সূত্র জানায়, কানিজ ও জুয়েল কয়েক বছর আগে বিয়ে করেন। সন্তানের জন্মের আগে থেকেই জুয়েল কারাগারে আছেন।
নিহত সুবর্ণার ভাই মো. শুভ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দী থাকায় অনেকটাই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তাঁর বোন। মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলেন। তবে অন্য কিছুও থাকতে পারে। তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনা তদন্তের দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেটারে আমার দুলাভাই একবারও কোলে নিতে পারেনি। শেষবারের জন্য যেন একটু দেখতে পারে, তাই নিয়ে গিয়েছিলাম।’
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আত্মগোপনে ছিলেন জুয়েল। গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন থেকেই বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন তিনি।