সড়কের পাশে কাতরাচ্ছিলেন রক্তাক্ত ব্যক্তি, হাতের ইশারায় বাঁচার আকুতি

চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সছবি: সংগৃহীত
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে সড়কের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকে কেউ হত্যা করেছে নাকি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন—এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ হাশেম (৩৭)। তিনি উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাদশারপাড়া এলাকার বানু মিয়ার ছেলে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে উপজেলার বরুমতি সেতু এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ব্যক্তি সড়কের পাশে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তাঁর ডান পা থেকে রক্ত পড়ছিল। সড়ক দিয়ে যাওয়া বিভিন্ন যানবাহনের দিকে তিনি হাতে ইশারা করে বাঁচার আকুতি করছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে এক মোটরসাইকেল আরোহী কয়েকজন পথচারীকে নিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।

ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া ব্যক্তিদের একজন মোহাম্মদ জুনায়েদ। তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মোটরসাইকেলে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়কের পাশে ওই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। ওই ব্যক্তি তাঁকে হাতে ইশারা দিচ্ছিলেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন, ওই ব্যক্তি তাঁকে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন। এরপর তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশের পরামর্শে তিনি ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেন।

জানতে চাইলে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমুল আবেদীন প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকালে মুমূর্ষু অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর ডান পা ভাঙা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে মারধর করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকাল আটটার দিকে ৯৯৯-এর মাধ্যমে তাঁরা এ খবর পান। পথচারীরা মোহাম্মদ হাশেমকে উদ্ধার করে চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা জানতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।