ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের আগের দিন আজ বুধবার সকালে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) ১১–দলীয় জোট সমর্থিত আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভুইয়ার (ফুয়াদ) নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ওই প্রার্থীর অভিযোগ, বিএনপির নেতা-কর্মীরা এই ভাঙচুর চালিয়েছেন।
বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন। এ আসনে এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ছাড়াও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপুসহ আরও চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গোলাম কিবরিয়া বর্তমানে কারাগারে। তাঁর পক্ষে পরিবারের সদস্যরা মাঠে আছেন।
আসাদুজ্জামানের নির্বাচন সমন্বয়ক, বরিশাল জেলা ও মহানগর এবি পার্টির সদস্যসচিব জি এম রাব্বি জানান, আজ বেলা ১১টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের আসাদুজ্জামানের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে কয়েকজন কর্মী ভোটারদের স্লিপ লিখছিলেন। এ সময় ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেলে করে বিএনপির প্রার্থীর ২৫ থেকে ৩০ জন কর্মী এসে কার্যালয়ে হামলা চালান। এ সময় তাঁরা কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাব ভাঙচুর করেন। কাগজপত্র তছনছ করেন। এতে এলাকায় চরম ভীতির সৃষ্টি হয়। তাণ্ডব চালিয়ে যাওয়ার সময় হামলাকারী যুবকেরা এবি পার্টির কর্মীদের শাসিয়ে যান, ভোটের পর তাঁদের দেখিয়ে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে এবি পার্টির নেতা জি এম রাব্বি প্রথম আলোকে বলেন, ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি ও মনোবল ভাঙার উদ্দেশ্যে বিএনপির লোকজন মাধবপাশা ইউনিয়নে ঈগল প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। ভোটের আগের দিন এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা প্রমাণ করে, এরা দেশে কী ধরনের শান্তি ও উন্নয়ন চায়। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, মাধবপাশা ইউনিয়নে একজন প্রার্থীর কার্যালয়ের কয়েকটি চেয়ার ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং কাগজপত্র এলোমেলো হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, বিএনপি কিংবা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ভাঙচুর করেনি। পাল্টা অভিযোগ করে তিনি বলেন, ঈগল প্রতীকের প্রার্থী পরাজিত হওয়ার ভয়ে মিথ্যা অভিযোগ করে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন।