প্যারোলে মুক্তি মেলেনি, বাবার মরদেহ এল কারাগারে
বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেছিল কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী আওয়ামী লীগের কর্মী মিলন মিয়ার পরিবার। তবে প্যারোল নামঞ্জুর হওয়ায় তাঁর বাবার মরদেহ আনা হয় কারাগারে। আজ বুধবার দুপুরে কারাফটকে বাবার মরদেহ দেখেন মিলন মিয়া।
মিলন মিয়া (৪৫) কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। ওই মামলায় জামিন পেলেও সম্প্রতি বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। মিলন মিয়া আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবিতে নেই বলেও স্বজনেরা দাবি করেছেন।
স্বজন ও আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিলনের বাবা ফুল মিয়া (৭০) দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর বাবার জানাজায় অংশ নিতে মিলন মিয়ার প্যারোলে মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। তবে আবেদন নামঞ্জুর করে মরদেহ কারা ফটকে নিয়ে দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মিলনের চাচা মতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারাগারে বাবার মরদেহ দেখে মিলন কান্নায় ভেঙে পড়ে। প্যারোলে মুক্তির অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। মিলন আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবিতে ছিল না।’ তিনি বলেন, তাঁর ভাতিজাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা একটি মামলায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার করে ভৈরব থানা-পুলিশ। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি একটি মামলায় জামিন হলেও বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূঁইয়া বলেন, মিলনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের ফটকে মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়।