বাঁশখালী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবীর প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা চরে আটকে পড়া পাথরবাহী বার্জটি উদ্ধারের জন্য দুটি টাগবোট পাঠিয়েছি। টাগবোট দুটি পাথরবাহী বার্জের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এখন ভাটার মধ্যে আছে। বার্জের কোনো একটি অংশ চরে আটকে আছে। জোয়ার এলে উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। প্রথমে টাগবোট দিয়ে টেনে সাগরের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হবে।’

হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, বার্জটি ভারত থেকে একটি টাগবোট টেনে নিয়ে আসছিল। বাংলাদেশের নৌ সীমানায় ঢোকার পর বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে। তখন দুটি দুই দিকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সম্ভবত রাতের আঁধারে এটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে হয়তো টাগবোটের লোকজন সেটি খেয়াল করতে পারেননি। ওই টাগবোটের ইঞ্জিনকক্ষে যেসব ক্রু ও মাস্টার ছিলেন, তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণগুলো সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। কথা বলার পর সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে এই আইনজীবী বলেন, বার্জটি কক্সবাজারের মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের নয়, এটা বাঁশখালী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের। যেটি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা এলাকায় নির্মিত হচ্ছে। এটা দেশের সর্ববৃহৎ ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প। তিনি ওই প্রকল্পের আইনজীবী।

দক্ষিণাঞ্চলীয় কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. এ কে এম শাফিউল কিঞ্জল বলেন, উদ্ধারকারী টাগবোট দুটি আটকে পড়া বার্জ থেকে তিন কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। ভাটার কারণে উঠতে পারছে না। পূর্ণ জোয়ারে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে টাগবোট দুটি উদ্ধারকাজ শুরু করবে।

মিডিয়া কর্মকর্তা আরও বলেন, গত শুক্রবার দুপুর থেকে কোস্টগার্ডের ১৯ জনের দুটি দল পালাক্রমে বার্জটি পাহারা দিচ্ছে। রোববার মালিকপক্ষের চারজন পাহারাদার ও দুজন পুলিশ বার্জে গেছেন। উদ্ধার করতে পারলে ভালো, অন্যথায় কোস্টগার্ড মালিকপক্ষের কাছে বার্জের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবে।

কোস্টগার্ড জানায়, বার্জটি ভারতের কাকিনাদা বন্দর থেকে টাগবোটের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হচ্ছিল। গত বুধবার দিবাগত রাতে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বার্জটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ভাসতে ভাসতে ভোলার চরফ্যাশনে চলে আসে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন