জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের (সদর-তেঁতুলিয়া-আটোয়ারী) ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. সারজিস আলমের বছরে আয় ৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের বার্ষিক আয় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। নওশাদের চেয়ে তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পদ বেশি।
স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা সারজিস হলফনামায় পেশা হিসেবে ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করেছেন। গাজীপুরের আদালতে তাঁর নামে মানহানির একটি মামলা আছে, যা তদন্তাধীন। তবে বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমিরের নামে কোনো মামলা নেই। পেশায় আইনজীবী নওশাদ জমির এলএলএম সম্পন্ন করেছেন। তাঁর স্ত্রীও আইনজীবী, তিনি যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র সলিসিটর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন এই দুই প্রার্থী। জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতা হওয়ায় পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলমকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইন।
বাড়ি–গাড়ি নেই সারজিসের
হলফনামায় তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বামন কুমার এলাকার বাসিন্দা সারজিস আলমের জন্ম ১৯৯৮ সালে। ২৭ বছর বয়সী সারজিস আলম ব্যবসা থেকে বছরে আয় করেন ৯ লাখ টাকা। অন্য কোনো খাতে তাঁর আয় নেই। ২০২৫-২৬ কর বর্ষে তিনি সাড়ে ৫২ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছেন। আয়কর রিটার্নে সম্পদ দেখিয়েছেন ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকার। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর কোনো ঋণ নেই। পেশায় গৃহিণী স্ত্রীর সম্পদের কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি।
হলফনামার অস্থাবর সম্পদ হিসেবে নগদ ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা এবং ব্যাংকে এক লাখ টাকা জমা থাকার কথা উল্লেখ করেছেন সারজিস আলম। এর বাইরে তাঁর ৭৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও ৭৫ হাজার টাকার আসবাব আছে। তবে কোনো স্বর্ণালংকার নেই। স্থাবর সম্পদ হিসেবে দান পাওয়া সাড়ে ১৬ শতাংশ কৃষিজমি আছে তাঁর, যার অর্জনকালীন মূল্য সাড়ে ৭ হাজার টাকা হলেও বর্তমানে আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তিনি ১০ লাখ টাকার মালিক। তবে হলফনামায় আয়কর সম্পর্কিত তথ্যের ছকে আয়কর রিটার্নে ৩৩ লাখ ৭৩ লাখ ৬২৮ টাকার সম্পদ দেখানোর কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
নওশাদের চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ বেশি
বিএনপির প্রার্থী মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর-নয়াবাড়ি এলাকায়। তবে তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকার ধানমন্ডিতে বসবাস করেন। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের বড় ছেলে। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নওশাদ জমিরের আইন পেশা থেকে বার্ষিক আয় ৪৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭৬৬ টাকা। আয়ের বিপরীতে তিনি ৯ লাখ ১৪ হাজার ৩৩০ টাকার আয়কর দিয়েছেন। স্ত্রীর কোনো আয়ের তথ্য দেননি। তবে আয়কর তথ্যে স্ত্রীর রিটার্নে দেখানো আয়ের পরিমাণ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেছেন।
নওশাদ জমিরের অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ২৭৭ টাকা আছে। আর স্ত্রীর কাছে ১৫ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা ও বৈবাহিক উপহার হিসেবে পাওয়া ২১ ভরি স্বর্ণালংকার থাকার তথ্য উল্লেখ করেছেন তিনি। নওশাদের স্থাবর সম্পদ হিসেবে পূর্বাচলে ১০ কাঠা অকৃষিজমি থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ছিল ১৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর নামে যুক্তরাজ্যে ১ লাখ ৭৭ হাজার পাউন্ডের ১টি ফ্ল্যাট ও উত্তরায় প্রায় সাত কাঠা জমিতে বাড়ির তথ্য দিয়েছেন, যার অর্জনকালীন মূল্য ২ কোটি ৮১ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
পঞ্চগড় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, পঞ্চগড়-১ আসনে আটজন ও পঞ্চগড়-২ আসনে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আজ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে পঞ্চগড়-১ আসনে একজন ও পঞ্চগড়-২ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।