এ সময় মো. ফারুক বুক চাপড়ে কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, ‘আঁর মায়ার (আমার মেয়ের) এবার সেকেন্ড ইয়ারত পড়ি (পড়ে) ভার্সিটিত ভর্তি হইবার হতা (কথা)। এত লালন–পালন গড়ি (করে), এত কিছু গরনের পর আঁর মায়াগা গেলগই (মারা গেল)।’

মো. ফারুক র‍্যাংগস ইলেকট্রনিকস লালখান বাজার শোরুমে কাজ করেন। তাঁর মেয়ে ফাতেহা জাহান চট্টগ্রাম নগরের এনায়েত বাজারের এনায়েত বাজার মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। গতকাল বেলা দুইটা থেকে তাঁর ব্যবহারিক পরীক্ষা ছিল। এ জন্য মেয়ে ফাতেহা জাহানকে নিজের মোটরসাইকেলের পেছনে বসিয়ে কলেজে নিয়ে যাচ্ছিলেন ফারুক।

default-image

পথে ফৌজদারহাট বায়েজিদ সংযোগ সড়কের ৩ নম্বর সেতু এলাকায় সামনের দিক থেকে একটি কাভার্ড ভ্যানের কারণে মোটরসাইকেল ব্রেক করেন ফারুক। এ সময় সড়কে মাটি থাকায় মোটরসাইকেলসহ পিছলে পড়ে যান। এতে ফাতেহা জাহান পেছন থেকে পড়ে গিয়ে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় নিহত হন।

আক্ষেপ করে ফারুক বলেন, ভাবতেই পারেননি, মেয়ে মারা গেছেন। তিনি মনে করেছিলেন, কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় আঘাত পেয়ে পড়ে আছেন। ডাকার পর দেখেন, মেয়ে আর কথা বলছেন না। এরপর নিজেকে সামলাতে পারেননি। একাধিকবার আত্মহত্যা করার জন্য সড়কে শুয়ে পড়েন। সেখানে উপস্থিত দুই ব্যক্তি তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে আসেন।

প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফারুক বলেন, ফৌজদারহাট বায়েজিদ সংযোগ সড়কের কাছে পাহাড়ি ধস বন্ধ করতে হবে। এ মাটির কারণে গত এক বছরে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

মেয়েকে হারিয়ে সারা রাত ঘুমাননি আয়েশা বেগম। তিনি বলেন, মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল তাঁদের। মেয়ের আশা ছিল, চিকিৎসক হবেন। অথচ কাভার্ড ভ্যানের চাপায় সব স্বপ্ন পিষে গেল।

জানতে চাইলে আজ রাত সাড়ে আটটার দিকে সীতাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আবেদন করায় লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মামলা করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা মামলা করেননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন