এয়ারগান হাতে শিক্ষক, তরুণ বললেন, ‘আপনি কোনোভাবেই পাখি মারতে পারেন না’
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় এয়ারগান হাতে নিয়ে সড়কে হেঁটে চলার সময় এক পাখিশিকারির সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে এলাকার এক তরুণের। এয়ারগান হাতে থাকা ব্যক্তির নাম শাহজাহান আলী। তিনি সদর উপজেলার স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। আর ওই তরুণ নিজেকে স্থানীয় মসজিদের ইমাম বলে পরিচয় দিয়েছেন। বাগ্বিতণ্ডার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
আজ সোমবার সকালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ জামান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনা সত্য। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছে, তাঁকে যেন শোকজ করা হয়। এ ছাড়া আজ বন বিভাগের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে। এয়ারগান ব্যবহার করা আইনে নিষেধ আছে। তাঁর এয়ারগানটি জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
দুই মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, শীতের পোশাক পরা শাহজাহান আলী হাতে একটি এয়ারগান নিয়ে হাঁটছিলেন। তাঁর সঙ্গে দু-তিনটি শিশুও আছে। এয়ারগান হাতে থাকা শাহজাহানের সঙ্গে এক তরুণের বাগ্বিতণ্ডা হচ্ছে। ওই তরুণ পাখিশিকারি শাহজাহানকে বলছিলেন, ‘আপনি পাখি মারছেন কেন?’ শিক্ষক বলছিলেন, ‘খালি ন্যাটা পাকাচ্ছে। পাখি মারছি না। আমি হাইস্কুলের শিক্ষক। অন্যায়–বেঅন্যায় দেখতে আসিনি।’ এ সময় ওই তরুণ বলতে থাকেন, ‘আপনি এই এলাকায় পাখি মারতে পারেন না। মারতেই পারেন না।’
একপর্যায়ে ব্যাগ দেখতে চান ওই তরুণ। তিনি বলতে থাকেন, ‘আপনার সন্তানকে যদি গুলি করে, তখন কী করবেন! আপনি কোনোভাবেই পাখি মারতে পারেন না।’ এ নিয়ে চলতে থাকে বাগ্বিতণ্ডা। দ্রুত হেঁটে চলে যান শাহজাহান আলী। ভিডিওতে নিজেকে ইমাম পরিচয় দিয়ে ওই তরুণ বলতে থাকেন, একজন হাইস্কুলের শিক্ষক হয়ে কীভাবে পাখি শিকার করতে পারেন? বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ভিডিওটা দেখেছি। এ বিষয়ে স্কুলের সভাপতি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে অবগত করেছেন। আমাদের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে ডেকে ইউএনও ওই শিক্ষককে শোকজ করতে বলেছেন।’
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহজাহান আলী বলেন, ‘এই ভিডিও গত শুক্রবারের। আমার আড়াই বিঘা জমির ওপর পুকুর আছে। আমার পুকুরে বক এসে মাছ নিয়ে যায়। বক তাড়ানোর জন্য আমি এই এয়ারগান পাঁচ বছর ধরে ব্যবহার করি। এই এয়ারগান আমি পৈতৃক সূত্রে আমার বাবার কাছ থেকে পেয়েছি। আমার বাবা বেঁচে থাকতে তিনি ব্যবহার করতেন। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে, তা মিথ্যা। আমি পাখি শিকার করি না।’