নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। আজ রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ওই তরুণকে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের রেজিস্টারে দেওয়া তথ্যমতে, নিহত তরুণের নাম সিফাত উল্লাহ ওরফে সবুজ (২০)। তিনি রায়পুরার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের চান্দেরকান্দি গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে। সিফাত বর্তমান চেয়ারম্যান রাতুল হাসান ওরফে জাকিরের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক।
এর আগে আজ বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফুল হক ও বর্তমান চেয়ারম্যান রাতুল হাসানের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ হন সিফাত। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়নটিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফুল হক ও বর্তমান চেয়ারম্যান রাতুল হাসানের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। তাঁদের সমর্থকেরা প্রায়ই টেঁটা-বল্লম, দেশি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। গত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আশরাফুল হকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী রাতুল হাসান। নির্বাচনের পর থেকে এ পর্যন্ত দুই পক্ষ অন্তত ১০ বার সংঘর্ষে জড়ায়। সম্প্রতি মির্জারচর ইউপির চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ওই উত্তেজনার মধ্যে আজ দুপুরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে রায়পুরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যান রাতুল হাসানের পক্ষের সমর্থকদের সরিয়ে দেয়। পরে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফুল হকের সমর্থকেরা প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়ালে সিফাত উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ এন এম মিজানুর রহমান বলেন, সিফাত উল্লাহ নামের ওই তরুণকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। বুকের ডান পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাঁশগাড়ি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফুল হক ও বর্তমান চেয়ারম্যান রাতুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রায়পুরা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ওই তরুণ নিহত হন। তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।