জন্মের আগে বাবাকে, এক বছরের মধ্যে মাকে হারাল ছোট্ট মুনিয়া

বাবা মারা গেছেন আগেই। মা ফারজানা বেগম লাঠির আঘাতে মারা গেলেন গতকাল। এতিম হয়ে গেল তিন শিশুছবি: প্রথম আলো

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার দক্ষিণ হিরন গ্রামে গতকাল বুধবার লাঠির আঘাতে নিহত ফারজানা বেগম তিন সন্তান রেখে গেছেন। বড় মেয়ে ফারিয়ার বয়স সাত বছর, ছেলে তাহসান দুই বছরের আর ছোট মেয়ে মুনিয়ার বয়স মাত্র এক বছর। ফারজানার দেবর খালিদ মোল্লা তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ।

ফারজানা বেগম দক্ষিণ হিরন গ্রামের জাহিদ মোল্লার স্ত্রী। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষেরচর উত্তরপাড়া গ্রামের হেকমত শেখের মেয়ে।

ফারজানার বাবার বাড়ির লোকজন বলেন, এক বছর তিন মাস আগে ফারজানা বেগমের স্বামী জাহিদ মোল্লা মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে মারা যান। ফারজানা তখন অন্তঃসত্ত্বা। পরে মুনিয়ার জন্ম হয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর বাড়ি ও দোকানভাড়া থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে সংসার চলত তাঁর। সেই টাকা নিয়ে ঝামেলার জেরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দোকান ও বাড়িভাড়ার টাকা ছেলের বউ ফারজানা ও ছোট ছেলে খালিদ মোল্লার মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দিতেন সরুপজান বেগম। গত মাসে ভাড়ার টাকা তুলে সরুপজান তাঁর ছোট ছেলে খালিদ মোল্লাকে দিয়ে দেন। এতে তিন সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েন ফারজানা।

গতকাল সকালে শাশুড়ির কাছে ফারজানা জানতে চেয়েছিলেন, কেন তাঁদের টাকা দেওয়া হয়নি। সে কথা শাশুড়ি ছোট ছেলেকে বলেন। এ নিয়ে ভাবি ফারজানার সঙ্গে খালিদের কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে খালিদ লাঠি দিয়ে ফারজানার মাথায় আঘাত করেন। বেধড়ক মারপিট করে চলে যান। পরে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখান থেকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত ফারজানার ভাই তরিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর বোন গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে কল করেন। মাসের টাকা না পাওয়ার কথা জানান। তখন তিনি সন্ধ্যায় তাঁর বাসায় যাবেন বলে জানান। পরে বোনের এক প্রতিবেশী কল করে মারধরের ঘটনা জানান। বোনের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কী হবে?

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফিরোজ আলম মারধরে নারীর মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন।