জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র জানায়, জেলায় এ বছর ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩০ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। গত জুন মাসের শেষ সপ্তাহে চারা রোপণ শুরু হয়েছে, চলবে আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। জেলায় গত ২৬ দিনে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধান আবাদের জমি প্রয়োজনীয় পানির অভাবে পড়ে রয়েছে। অনেকে জমি তৈরি করে রাখলেও চারা রোপণ করতে পারছেন না। এ কারণে কৃষকেরা জমিতে ‘বোলান’ চারা লাগানোর দিকে ঝুঁকছেন।

কৃষকেরা বলেন, আমন ধানের বীজতলার বয়স বাড়ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় বৃষ্টি না হওয়ায় এ মুহূর্তে জমিতে চারা লাগানো যাচ্ছে না। তাই বীজতলা থেকে চারা তুলে সেচ দেওয়া জমিতে বোলান চারা করা হচ্ছে। ২০–২৫ দিনের মধ্যে ওই চারা উত্তোলন করে জমিতে রোপণ করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতা, পূর্ববর্তী ফসল বা অন্য কোনো কারণে যদি রোপণ বিলম্বিত হয়, তবে বেশি বয়সের চারা ব্যবহারের পরিবর্তে দ্বিরোপণপদ্ধতিতে ধান আবাদ একটি ভালো প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তি রংপুর অঞ্চলে ‘বোলান’ নামে পরিচিত। এ পদ্ধতিতে আমন ধানের মৌসুমে ২৫-৩০ দিন বয়সের চারা উত্তোলন করে অন্য জমিতে ঘন করে সাময়িকভাবে রোপণ করা হয়। সেখানে চারা আরও বড় হয়ে যায়। পরে আবার সেই মূল জমিতে চারা রোপণ করতে হয়। মৌসুমভেদে এসব জমির ফসল ৭ থেকে ১০ দিন আগে পাকে।

ইটাখোলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামের মো. আতাউর রহমান (৪৫) বলেন, ‘আমি তিন বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করি। বৃষ্টির অভাবে এখনো চারা লাগানো শুরু করতে পারি নাই। বীজতলার বয়স বাড়ছে। এখন বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিনে জমিতে পানি দিয়ে বোলান চারা করছি। তাতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে।’

টুপামারী ইউনিয়নের কিছামত দোগাছি গ্রামের কৃষক মো. মোতালেব হোসেন (৪০) বলেন, তাঁর শ্যালো মেশিন আছে, কিন্তু তেলের দাম বেশি। বাধ্য হয়ে অন্যের বিদ্যুৎ–চালিত মোটর দিয়ে পানি নিয়ে তিন বিঘা জমিতে চারা লাগিয়েছেন। তাতে খরচ বেশি হচ্ছে। এখন বাকি দুই বিঘা জমির জন্য বোলান চারা লাগিয়েছেন।

কৃষকেরা বলেন, সাধারণত বর্ষার সময় নিচু জমিতে ‘বোলান’ চারা না লাগালে ধান ভালো হয় না। কিন্তু এখন চারা বাঁচানোর জন্য বোলান চারা করতে হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকেরা আগাম আমন ধানের চারা রোপণ করে থাকেন। ‘বোলান’ চারা করা এ অঞ্চলের কৃষকের পুরোনো পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ফলনও ভালো হয়। বৃষ্টি হলে কৃষকদের শ্যালো মেশিনের খরচ বেঁচে যাবে। তাই অনেকে এখনো বৃষ্টির অপেক্ষা করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন