আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের দুই সার্ভিস সেতু চালুর পর যেসব সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটারের পৃথক দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তোলাছবি: প্রথম আলো

সাভারের আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর মোড় পর্যন্ত যেতে আগে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগত। যানজটের তীব্রতায় তা কখনো এক থেকে দেড় ঘণ্টা লেগে যেত। এখন সেই পথ যেতে সময় লাগছে ৫ থেকে ৬ মিনিট। লক্কড়ঝক্কড় সড়কের বদলে এখন মসৃণ সেতু দিয়ে পথটি অতিক্রম করছে যানবাহনগুলো।

গতকাল বুধবার ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটারের পৃথক দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। গতকাল দুপুরে ফিতা কেটে সেতুর উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এর পর থেকে দুই লেনবিশিষ্ট সেতু দিয়ে টোল ছাড়াই সব ধরনের যান চলাচল করছে।

আলিফ পরিবহনের চালক শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্রিজটা হওয়ার কারণে খুব ভালো হয়েছে। ভাঙা রাস্তা ও যানজটের কারণে আগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগত, এখন পার হতে লাগছে ১০ মিনিটের মতো।’

সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানচালক সোহাগ হোসেন বলেন, আগে এ রাস্তায় যানজট লেগেই থাকত। রাস্তা ভাঙাচোরা থাকায় গাড়ির ভেতরের মালামাল অনেক সময় ভেঙে যেত। এতে তাঁদের অনেক ক্ষতিপূরণ দিতে হতো। এখন আর সেটা হবে না। টোলও দেওয়া লাগছে না।

ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ

সেতু হওয়ায় উভয় প্রান্তে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। আশুলিয়া বাজার এলাকার চায়ের দোকানদার মো. পরাগ বলেন, ‘সেতুটি হওয়ায় অটোমেটিক লাভ হয়েছে। কারণ, এখানে আগে যে পরিমাণ লোক চলাচল করত, এখন তার থেকে বেশি লোক চলাচল করবে। কাস্টমারও বাড়বে। রাস্তা পুরোপুরি কমপ্লিট হলে অটোমেটিক্যালি এখানে সমস্ত কিছু ডেভেলপ হবে। সবার জন্যই উপকারী হইছে।’

তবে সেতু হওয়ায় কিছুটা চিন্তিত সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. ফয়সাল। তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলতে না দিলে তাঁদের জন্য লাভ হতো। আগে তাঁরা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়ায় আশুলিয়া থেকে আবদুল্লাহপুর যেতেন। এখন ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। অটোতে জনপ্রতি ৫০ টাকা নিয়ে যাচ্ছে। তারা তো চার্জ দিয়ে চলে। কিন্তু তাঁদের তেল-মবিল ও গ্যাস লাগে। সেতু দিয়ে অটোতে ৭-৮ মিনিট লাগে, সিএনজিতে লাগছে ৪-৫ মিনিট।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত সার্ভিস সেতুতে যান চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তোলা
ছবি: প্রথম আলো

আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রধান ভৌত উপাদানের মধ্যে আছে ২৪ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ১০ দশমিক ৮৩৪ কিলোমিটার র‍্যাম্প, ১৬ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার অ্যাট-গ্রেড সড়ক, ৪ দশমিক শূন্য ৫ কিলোমিটার বাইপাইল ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ এবং মোট ৭ দশমিক ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সেতু।

প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মিত হলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) শূন্য দশমিক ২১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। অনুমোদিত দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী, প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৬৬ শতাংশ ও আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

আরও পড়ুন

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হলে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর, আশুলিয়া, বাইপাইল এবং ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এতে রাজধানী থেকে দ্রুত বাইরে যাওয়া ও ঢাকায় প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গসহ ৩০টি জেলার প্রায় চার কোটির বেশি মানুষ এ এক্সপ্রেসওয়ের সুবিধা পাবেন। পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ ও দ্রুত হওয়ার পাশাপাশি যানজট কমাতেও এটি ভূমিকা রাখবে।