চট্টগ্রামে নির্বাচন নিয়ে ছাত্রদল নেতার ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য, ভিডিও ভাইরাল

রাঙ্গুনিয়া চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ওসমান। গত বৃহস্পতিবার রাতেছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০০১ সালে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা এলাকায় বিএনপিকে জেতাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজনের ওপর হামলা করেছিলেন বলে বক্তব্যে দাবি করেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইউনিয়ন ছাত্রদল আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এমন বক্তব্য দেন। গতকাল শুক্রবার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ছাত্রদলের সাবেক এ নেতার নাম মুহাম্মদ ওসমান। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বক্তব্যের ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ‘রাঙ্গুনিয়া-৭’ নামের একটি ফেসবুক পেজে শেয়ার করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে অনেকেই সমালোচনায় মেতে ওঠেন।

ভিডিওতে মুহাম্মদ ওসমানকে উপস্থিত ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, আমরা জীবন বাজি রেখে নির্বাচন করেছি।...জীবনে কোনো দিন চন্দ্রঘোনায় বিএনপি পাস করেনি, কোনো নির্বাচনে বিএনপি পাস করেনি। কিন্তু ২০০১ সালে আমরা দেড় হাজার ভোটে পাস করিয়েছি।’

মুহাম্মদ ওসমান বলেন, ‘হিন্দু পাড়ায় গিয়ে, দুই-তিনজনকে যখন মাথা ফাটিয়ে দিয়ে আসছি....এভাবে আমরা নির্বাচন করে আমার ভাইকে (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী) চন্দ্রঘোনা থেকে পাস করিয়েছি। তো যত বাধাই আসুক ছাত্রদলের ছেলেরা কেন্দ্রে থাকবেন, সব বাধা অতিক্রম করে বিপুল ভোটে পাস করতে হবে।’

খোঁজ নিয়ে গেছে, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে উপজেলার চন্দ্রঘোনা আধুরপাড়া গ্রামে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আয়োজক ছিল চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন ছাত্রদল। মুহাম্মদ ওসমান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নেন।

ওসমান যখন হিন্দু পাড়ায় গিয়ে দুই-তিনজনের মাথা ফাটানোর কথা বলছিলেন, তখন তাঁর পাশে বসে থাকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস সিকদার তাঁকে এ বিষয়ে কথা না বলতে হাতে ইশারা করেন। তবে এ সময় ইলিয়াস সিকদারকে উদ্দেশ্য করে ওসমান বলেন—‘বলতে হবে’। এরপর আবারও কথা চালিয়ে যান তিনি।

মুহাম্মদ ওসমানের এমন বক্তব্যে অনেক ভোটারের মনে ভয়ের সঞ্চার হয়েছে বলে দাবি করেন রাঙ্গুনিয়া আসনে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী। জানতে চাইলে জামায়াতের প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, ‘এটা স্মরণসভা ছিল, সেখানে দোয়া হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে মানুষের মাথা ফাটানোর কথা বলা হয়েছে। আমরা তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

একই আসনের ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ইকবাল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সব মানুষ নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে, এমন পরিবেশে নির্বাচন হতে হবে। দোয়া মাহফিলে এমন নিন্দনীয় বক্তব্য ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভয় তৈরি করবে। প্রশাসনকে এসব বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বক্তব্যর বিষয়ে জানতে চেয়ে মুহাম্মদ ওসমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন বাহার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই বক্তব্য বিএনপির মতাদর্শের পরিপন্থী। বিএনপি একটি অসাম্প্রদায়িক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দল। এই বক্তব্য আমরা ঘৃণা করি। ছাত্রদলের সাবেক এই নেতার বিতর্কিত বক্তব্য দলের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা এসব বক্তব্যের দায় নেব না।’