সন্দ্বীপে সাগরের ভাঙনে উন্মুক্ত দুটি সাবমেরিন কেব্‌ল, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা

সাগরের ভাঙনে উন্মুক্ত হয়ে পড়া একটি সাবমেরিন কেব্‌ল। গত রোববার তোলা। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায়ছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নে দুটি সাবমেরিন কেব্‌ল উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেলের তীব্র স্রোতে ভাঙনের মুখে পড়ে উপরিভাগের মাটি সরে যাওয়ায় সম্প্রতি সাবমেরিন কেব্‌ল দুটি উন্মুক্ত হয়ে যায়। এতে সাবমেরিন কেব্‌ল দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সাবমেরিন কেব্‌লের মাধ্যমে দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ২০১৮ সাল থেকে দ্বীপটিতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুটি সাবমেরিন কেব্‌লের মাধ্যমে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়। তবে প্রাথমিকভাবে একটি কেব্‌লের মাধ্যমে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দুটি কেব্‌লের স্থায়ীত্বকাল ৫০ বছর।

সন্দ্বীপের যে স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেটি বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে দেড় কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। ভাটার সময় কেব্‌ল দুটির প্রায় ৪০ ফুট দেখা যাচ্ছে। কয়েক দিন আগে স্থানীয় জেলে ও রাখালেরা সাবমেরিন কেবল্‌ দুটি উন্মুক্ত অবস্থায় দেখতে পান। সর্বশেষ গত শনিবার স্থানীয় এক যুবক সাবমেরিন কেব্‌ল উন্মুক্ত হয়ে পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করলে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে।

গতকাল রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, কেব্‌ল দুটি প্রায় ১৮ ইঞ্চি ব্যাসের। প্রায় ১৫ ফুট গভীরে মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে সেটি সাগরে গিয়ে পড়েছে। এলাকার বাসিন্দা মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আধা কিলোমিটারের মতো সমতল ভূমি ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনের কারণেই মাটি সরে সাবমেরিন কেব্‌ল উন্মুক্ত হয়ে গেছে।

জামাল উদ্দিন বলেন, ‘২০১৭ সালে যখন এই তার মাটির নিচ দিয়ে টানতেছিল, তখন আমি প্রতিদিন এসে দেখতাম। মাটির অনেক গভীর দিয়ে এই তার গেছে। দুইটা তারই দেখা যাইতেছে। ভাটার সময় বেশি দেখা যায়। তখন এলাকার ছেলেপুলে এই তারের ওপর দাঁড়িয়ে নাচানাচি করে, ভিডিও করে।’

এলাকার সামাজিক সংগঠন ‘আমরা সন্দ্বীপবাসী’র অন্যতম সমন্বয়কারী ওমর ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, সাবমেরিন কেব্‌ল দৃশ্যমান হয়ে পড়ায় মানুষের কৌতূহল যেমন বেড়েছে, তেমনি ঝুঁকির শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। সাবমেরিন কেব্‌লটি কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সন্দ্বীপের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।’ সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের একটি চিঠির মাধ্যমে তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন। সাবমেরিন কেব্‌লের নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসার–ভিডিপিকে নিরাপত্তা টহল বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।