নারায়ণগঞ্জসহ ১০ জেলায় আইসিইউ উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জসহ ১০টি জেলায় আইসিইউ সেবা উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া)ছবি: প্রথম আলো

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। সারা দেশে শুধু মেয়েদের জন্য দেড় হাজার শয্যার দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হবে। এ ছাড়া সারা দেশে ১ হাজার শয্যার ২০টি হাসপাতাল করা হবে।

রোববার সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১০টি জেলায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠান থেকে একযোগে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালসহ (ভিক্টোরিয়া) ১০টি জেলায় আইসিইউ উদ্বোধন করা হয়। ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হয় মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, শেরপুর, মাদারীপুর ও বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের আইসিইউ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার সরকার ও অদক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের টিকা কার্যক্রম চালানোর জন্য টিকার মজুত আমাদের জন্য রেখে যায়নি। টিবি ইনজেকশনের কোনো সিরিঞ্জ ছিল না। ভিটামিন এ ক্যাপসুল নাই, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন ছিল না। আমরা বিপর্যস্ত রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতিতে ক্ষমতা নিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদক্ষ নেতৃত্বে পর্যাপ্ত পরিমাণ হামের ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে টিকা প্রদান করা হয়েছে।’

এবারের বাজেট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেটে আমাদের নেতা তারেক রহমান দিকনিদের্শনা দিয়েছেন। শুধু টাকা নয়, কীভাবে দেশটাকে উন্নত করা যাবে, কোথায় কোথায় উন্নতি করতে হবে, তার আভাস দিয়েছেন জাতিকে। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য খাতকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার কাজ করছে।’

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে শুধু মেয়েদের জন্য দুটি স্পেশালাইজড (বিশেষায়িত) হাসপাতাল হবে। একেকটি হাসপাতাল হবে ১ হাজার ৫০০ শয্যার। হাসপাতাল দুটিতে চারটি কিডনি অ্যানালাইসিস, ডায়ালাইসিস সেন্টার থাকবে। মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যানসারের চিকিৎসা, প্রসূতির ডেলিভারি ও জেনারেল হাসপাতাল থাকবে। সারা বাংলাদেশে ১ হাজার শয্যার ২০টি হাসপাতাল হবে। পাঁচটি করে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে। চারটি হেলিকপ্টার থাকবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করছেন। ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজার হবে নারী। আমাদের ১০টি জেলায় আইসিইউ সেবা চালু করেছি। একটু শ্বাসকষ্ট হলেই রেফার করবেন না।’

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী ও জেলা সিভিল সার্জন মুশিউর রহমান।

অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অসন্তোষ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর ও কালো হাঁড়িপাতিল দেখে তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের হাজিরা খাতায় উপস্থিতিও দেখেন।

এ বিষয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালের যে অবস্থা দেখলাম, এটা প্রত্যাশা করি নাই। রান্নাঘরে কালো হাঁড়ি, অনেক দাহ্য পদার্থ রান্নাঘরে রেখেছেন, সেখানে আগুন লাগলে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে। এত অপ্রয়োজনীয় জিনিস। এখান থেকে ব্যাকটেরিয়া হবে। এগুলো তো মানুষ খায়।’ সিভিল সার্জনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার বাসায় এগুলো রাখবেন? কেউ রাখবে এসব কালো পাতিল? এটার মধ্যে রান্না করে আমাদের মানুষদের খাওয়াবেন, হতে পারে তারা গরিব। আপনাকে (সিভিল সার্জন) দুদিন সময় দিয়ে গেলাম। স্থানীয় এমপি ও ডিসির উপস্থিতিতে কালো হাঁড়িপাতিল ভাঙারি দোকানে বিক্রি করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করবেন। যদি আমরা এগুলো আবার দেখতে পাই, অ্যাকশনে যাব। আপনাকে প্রশ্ন করলে আপনি আরএমওর (আবাসিক চিকিৎসার কর্মকর্তা) দিকে তাকিয়ে থাকেন। কেন? আপনাকে সবকিছু জানতে হবে।’