যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় মামলা, ‘সন্ত্রাসী’ ইয়াসিনসহ আসামি ২৪২

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় যৌথ বাহিনীর একটি ক্যাম্প। গতকাল সকালে তোলাছবি: জুয়েল শীল

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় এলাকাটির নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ‘সন্ত্রাসী’ মো. ইয়াসিনসহ ৪২ জনকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামির সংখ্যা ২০০।

সীতাকুণ্ড থানার ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা গতকাল সোমবার রাতে মামলাটি করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার পাঁচজন এবং সন্ত্রাসী ইয়াসিনসহ মোট ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওসি জানান, পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলা, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের অভিযোগ এবং বিস্ফোরক আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

এর আগে গত রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় যৌথ বাহিনীর একটি ক্যাম্পে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলার সময় ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। পরে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় চৌকির দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য অন্তত চারটি স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়। পরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

গত ৯ মার্চ বড় অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনে যৌথ বাহিনীর একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। সেখানে পুলিশ, এপিবিএন, আরআরএফ ও র‍্যাবের ১৩০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ঠেকাতে কয়েকটি স্থানে রাস্তা কেটে ফেলে সন্ত্রাসীরা। গত রোববার গভীর রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে ঘটেছে এ ঘটনা। গতকাল সকালে তোলা
ছবি: জুয়েল শীল

র‍্যাব জানিয়েছে, রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হলেও রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালান বাহিনীর সদস্যরা। যৌথ বাহিনীর দাবি, ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরাই এ হামলার সঙ্গে জড়িত। এদিকে ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনের কথা রয়েছে। র‍্যাব বলছে, তাঁর সফরের নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি থাকবে না।

জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র উদ্ধারে দুই প্লাটুন বিজিবি চেয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত আবেদন করেন। গতকাল সোমবার সেই আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়। ৩১ মে পর্যন্ত সেখানে বিজিবি মোতায়েন থাকবে।

জঙ্গল সলিমপুর সীতাকুণ্ড উপজেলার আওতাধীন হলেও সেখানে যাতায়াত করতে হয় চট্টগ্রাম নগর হয়ে। বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সড়ক থেকে পাহাড়ি পথ ধরে এলাকাটিতে প্রবেশ করতে হয়। ছিন্নমূল ও আলীনগর—এ দুই অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে জঙ্গল সলিমপুর। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সেখানে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।