নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুন, এক পরিবারের চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি বাসায় চুলা জ্বালানোর সময় সিলিন্ডার গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুনে এক পরিবারের চারজনসহ পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে উপজেলার মদনপুরের চানপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার মদনপুরের চানপুর এলাকার সবজি বিক্রেতা আবদুল মান্নান (৫০), তাঁর স্ত্রী গার্মেন্টসকর্মী সুলতানা আক্তার (৩৫), ছেলে সিয়াম (১৯) ও মেয়ে মিম (১৩)। ওই বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় আট বছরের শিশু হযরত আলীও দগ্ধ হয়। তাঁদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। ওই পরিবারের চারজনের আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
স্থানীয় লোকজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ সকালে সুলতানা আক্তার রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। চাল ধোয়ার পর তিনি চুলায় হাঁড়ি বসান। এরপর চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করলে হঠাৎ বিকট শব্দে আগুন ধরে যায়। এতে তিনি দগ্ধ হন। ঘরের ভেতরে থাকা তাঁর স্বামী আবদুল মান্নান, ছেলে সিয়াম ও মেয়ে মিমও দগ্ধ হয়। এ সময় বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় শিশু হযরত আলীও আহত হয়। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে তাঁদের দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
প্রতিবেশী জোলেখা আক্তার বলেন, ‘বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে দেখি, পাশের বাসার দরজা খোলা। ঘরের ভেতর থেকে আগুনে পোড়া লোকজন বের হয়ে আসছে। তাদের চিৎকার শুনে আমরা এগিয়ে যাই।’
বাড়ির মালিক আক্তার হোসেনের ছোট ভাই মো. আসাদ প্রথম আলোকে বলেন, চলতি মাসের শুরুতে আবদুল মান্নান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ির নিচতলার ওঠেন। সিলিন্ডার গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুনে তাঁরা দগ্ধ হয়েছেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ জোন-২–এর উপসহকারী পরিচালক ওসমান গণি প্রথম আলোকে বলেন, বাসাটিতে তিতাস পাইপলাইনের গ্যাস থাকলেও বিকল্প হিসেবে রান্নাঘরে একটি গ্যাস সিলিন্ডার রাখা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপের লিকেজ থেকে গ্যাস বের হয়ে ঘরে আবদ্ধ অবস্থায় ছিল। চুলা জ্বালাতে গেলে বিস্ফোরণ হয়ে এই দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক (আরএস) শাওন বিন রহমান বলেন, সুলতানার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ, সিয়ামের ৭৭ শতাংশ, মিমের ৪১ শতাংশ, মান্নানের ৩০ শতাংশ এবং হযরত আলীর ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হযরত আলীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দগ্ধদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।