সিলেটে চায়ের দোকানে খাতা দেখা পরীক্ষককে শোকজ, কলেজ থেকে অব্যাহতি

চায়ের দোকানে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন পরীক্ষক ইকবাল হোসেন (মাঝে)। পাশে বসে থাকা আইরিন লিনজা তাঁর বন্ধু। শনিবার রাতে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক-সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানেছবি: প্রথম আলো

সিলেটে বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা পরীক্ষক ইকবাল হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে ঘটনা জানাজানির পর ইকবাল হোসেনকে খণ্ডকালীন প্রভাষক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে সিলেটের মেট্রো সিটি উইমেন্স কলেজ কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষা বোর্ডকে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও মেট্রো সিটি উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ মাজাহারুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, অভিযুক্ত পরীক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। ঘটনাটি অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ওই শিক্ষককে কলেজ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার একটি চিঠি শিক্ষা বোর্ডে এসেছে।

এর আগে গতকাল শনিবার রাতের বেলা সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক-সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন। তখন তাঁর বন্ধুরাও উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে চায়ের দোকানে গিয়ে তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে ৪০০ খাতা জব্দ করেন।

ইকবাল হোসেন মেট্রো সিটি উইমেন্স কলেজের খণ্ডকালীন প্রভাষক এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ডের একজন পরীক্ষক ছিলেন। তিনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। চায়ের দোকানে উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিষয়টি জানার পর ওই শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন

যোগাযোগ করলে মেট্রো সিটি উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ মাজাহারুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ইকবাল হোসেন তাঁদের কলেজে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চায়ের দোকানে খাতা দেখার বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষ জানার পর আজ দুপুরে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভা হয়। সভায় ওই শিক্ষককে কলেজ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অব্যাহতির চিঠিটি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।