প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়া রানী বেগম বললেন, ‘পরিবেশ ভালো, ঝামেলা নেই’

সিলেটের পিটিআই একাডেমিক ভবন ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন রানী বেগম। তিনি দেশের প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেনছবি: প্রথম আলো

১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনেই ভোট দিয়েছেন রানী বেগম। সিলেট নগরের নূরানী এলাকার বাসিন্দা এই নারী জানান, তাঁর বয়স এখন ৮০ বছর।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে নগরের পিটিআই একাডেমি ভবন ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন রানী বেগম। ভোট দিয়ে তিনি যখন বাসায় ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন কেন্দ্রের ভেতরে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। রানী বেগম তাঁর প্রথম ভোট দেওয়ার স্মৃতি হাতড়ে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের আগে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পরই প্রথম ভোট দিই। এর আগে ভোটার হলেও ভোট দেওয়া হয়নি। আগে ভোটে একটা আনন্দ ছিল। সব মানুষের মধ্যে উৎসাহ ছিল। এখন আর আগের মতো আমেজ নেই।’

অতীতে নির্বাচনে একসময় বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন বলে রানী বেগম জানান। তিনি বলেন, ‘আজ এখানে প্রার্থীর মানুষজন কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে ভোটারদের নিজেদের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপাচাপি করছিলেন। এটা ভালো লাগেনি। সব ভোটার তো তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার বিষয়টি আগেই ঠিক করে রেখেছেন।’ তিনি বলেন, ‘তবে পরিবেশ ভালো। কোনো ঝামেলা নেই। ভিড় হওয়ার আগে সকাল সকাল ভোট দিয়ে দিলাম। এখন বাসায় চলে যাব।’

রানী বেগমের সঙ্গে ছিলেন অঞ্জলী রানী দাশ। পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রতিবেশী এই নারীকে দেখিয়ে বলেন, ‘আমার যখন বিয়ে হয়, তখন অঞ্জলী খুব ছোট ছিল। এখন বয়স হয়েছে। তাই তাঁকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এলাম।’

রানী বেগম যে কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন, সেটি নারী ভোটারদের কেন্দ্র। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, এখানে মোট ভোট ২ হাজার ৪৯৭টি। ৮টা পর্যন্ত ৫০ জন ভোট দিয়েছেন।

কেন্দ্রটির একটি বুথের সামনে পাঁচজন নারী ভোটার দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের একজন লন্ডনী রোড এলাকার গৃহিণী ফাতেমা বেগম। তিনি বলেন, ‘সকালে ভিড় কম থাকে। ঝামেলাও কম হয়। তাই সকালে ভোট দিতে চলে এলাম।’

পিটিআই স্কুলে মোট কেন্দ্র তিনটি। দুটি নারীদের, একটি পুরুষের। সোয়া আটটার দিকে পুরুষ কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা গেছে, ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। ৩০ থেকে ৪০ জন ভোটার কয়েকটি সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন।

পুরুষ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, এখানে মোট ভোটার ২ হাজার ৬১৩ জন। তবে কতজন এ পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন, তা গণনা করা হয়নি। তিনি বলেন, সিলেট-১ আসনে আট প্রার্থীর মধ্যে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, মই ও ট্রাকের প্রার্থী এজেন্ট দিয়েছেন। অন্যদের এজেন্ট নেই।

কেন্দ্রটিতে ভোট দেওয়ার পর বাসায় ফিরছিলেন সুবিদবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. নূরে আলম চৌধুরী (৪৩)। পেশায় ব্যবসায়ী নূরে আলম বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ ভালো। ঝামেলাহীন ভোট দিলাম।’

এদিকে সকাল সোয়া ৯টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, পিটিআই স্কুলের তিনটি ভোটকেন্দ্র, আম্বরখানা গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। তবে নগরের কিনব্রিজ এলাকার সারদা স্মৃতি ভবন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের বেশ উপস্থিতি ছিল।

সারদা স্মৃতি ভবন ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবদুর রশিদ খান জানান, এখানে মোট ভোটার ২ হাজার ৮৬৮ জন। প্রথম সোয়া এক ঘণ্টায় ২০২টি ভোট পড়েছে।

সিলেট-১ আসনে মোট প্রার্থী আটজন। তাঁরা হলেন বিএনপির খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, জামায়াতের হাবিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রণব জ্যোতি পাল, গণ অধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) সঞ্জয় কান্ত দাস ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের শামীম মিয়া।