চট্টগ্রামে ঘোষণা দিয়ে মধ্যরাতে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ৬৫
মধ্যরাতে ঘোষণা দিয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। তবে সাম্প্রতিক আলোচিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত কোনো সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। অভিযানে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযোগে ৬৫ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল রোববার রাত ১২টার দিকে শুরু হওয়া এ অভিযানে মাদক মামলায় ৫ জন, ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৪১ জন, চাঁদাবাজির অভিযোগে ৫ জন, জুয়ার অভিযোগে ২ জন এবং কিশোর গ্যাংয়ের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা ও কয়েকটি অস্ত্র।
এর আগে গতকাল রাত ১১টার দিকে দামপাড়ায় সিএমপির সম্মেলনকক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ‘সিমালটেনিয়াসলি ড্রাইভ’ (এস ড্রাইভ’) নামে এ অভিযানের ঘোষণা দেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, নগরের ১০টি এলাকায় একযোগে অভিযান চালাতে ১০টি দল গঠন করা হয়েছে। ওসি থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একই সময়ে একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনার কৌশলকেই ‘এস ড্রাইভ’ বলা হচ্ছে। কোনো একটি আস্তানায় অভিযান চালালে যাতে অন্য অপরাধীরা সরে যেতে না পারে, সে জন্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গত শনিবার সকালে নগরের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা পর এ অভিযান চালানো হয়েছে। ওই ঘটনার পর অপরাধীদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘একটি ঘটনায় নগরবাসীর মনে কিছুটা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সেই আশঙ্কা দূর করতেই এই অভিযান।’
তবে ঘোষণা দিয়ে অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা দেখা গেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আগাম ঘোষণা দিলে অভিযানের কার্যকারিতা কতটা থাকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াহিদুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি একধরনের কৌশল। অপরাধীরা আগেই জানতে পারলে তারা স্থান পরিবর্তন বা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করবে। এতে তাদের গতিবিধি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যায়। অতীতেও এ কৌশলে ভালো ফল পাওয়া গেছে।’
ব্যবসায়ীর বাসায় গুলির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শহরের পাশের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান নেন। সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র শহরের ভেতর থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।