প্রেম করে বিয়ে, দুই মাস পর যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা
যশোরের মনিরামপুরে যৌতুক না পেয়ে এক গৃহবধূকে তাঁর স্বামী শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে।
ওই গৃহবধূর নাম ফাতেমা খাতুন (২০)। তিনি উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের সোহানুর রহমানের (২০) স্ত্রী। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোহানুরকে থানায় নেওয়া হয়েছে। ফাতেমা খাতুনের বাবা ইয়াছিন শেখ অভিযোগ করেন, যৌতুকের জন্য সোহানুর রহমান তাঁর মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর গ্রামের মিজানুর রহমান গাজীর ছেলে সোহানুর রহমানের সঙ্গে অভয়নগর উপজেলার জিয়াডাঙ্গা গ্রামের ইয়াছিন শেখের মেয়ে ফাতেমা খাতুনের প্রেম ছিল। গত ১১ জুলাই তাঁরা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। পরে দুই পরিবার তাঁদের বিয়ে মেনে নেয়। সোহানুর রহমান কাঁচামালের ব্যবসা করেন। বিয়ের এক মাস পর থেকে সোহানুর তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। বাবার কাছ থেকে যৌতুক না এনে দেওয়ায় কয়েকবার তিনি ফাতেমাকে মারধর করেন। ৮ সেপ্টেম্বর ইয়াছিন শেখ জামাই সোহানুরকে এক লাখ টাকা যৌতুক দেন। আরও দুই লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য সোহানুর ফাতেমাকে চাপ দিতে থাকেন। গতকাল রোববার রাতে এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। রাত একটার দিকে সোহানুর ফাতেমাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। রাত আড়াইটার দিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফাতেমাকে মনিরামপুর স্বাস্থ্যে কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তাঁরা চিকিৎসকদের জানান, ফাতেমা আত্মহত্যা করেছেন। এক পর্যায়ে তাঁরা লাশ রেখে পালিয়ে যান।
ইয়াছিন শেখ বলেন, ‘আমি দুই লাখ টাকা দিতে পারিনি বলে আমার মেয়েকে নির্যাতন করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর সারা শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।’
পুলিশ জানায়, আজ সকালে হাসপাতাল থেকে ফাতেমা খাতুনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, এটা হত্যা কি না, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। সোহানুর রহমানকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।