কক্সবাজারের রামুর ঈদগড় ইউনিয়নে রুস্তম আলী নামের একজন ইউপি সদস্যকে অপহরণ করেছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। আজ বুধবার সকালে ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কের পানেরছড়া ঢালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। রুস্তম আলী ঈদগড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। তাঁর বাড়ি একই ওয়ার্ডের করলিয়ামুরা গ্রামে।
পুলিশ জানায়, সন্ত্রাসীরা ইউপি সদস্যকে অপহরণ করে গহিন বনের ভেতরে নিয়ে গেছে। সেখানে তাঁকে আটকে রেখেছে। তাঁকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে। অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের দাবি, অপহরণের পর মুক্তিপণ হিসেবে তাঁদের কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করছেন অপহরণকারীরা। মুক্তিপণের টাকা না পেলে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
আজ সকাল পৌনে ছয়টার দিকে ঈদগাঁও বাজার থেকে মোটরসাইকেলে ঈদগড় যাচ্ছিলেন রুস্তম আলী। পথে পানেরছড়া ঢালা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন অস্ত্রধারী গতিরোধ করে ইউপি সদস্য রুস্তমকে তুলে নিয়ে জঙ্গলে ঢুকে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, ১০-১২ কিলোমিটারের ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কটি বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে গেছে। প্রায় সময় এ সড়কে ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পর ডাকাতি ও অপহরণ আতঙ্কে যানবাহনের চলাচল বন্ধ থাকে। জরুরি প্রয়োজনে কেউ সড়ক দিয়ে ঈদগাঁও সদরে কিংবা ঈদগাঁও থেকে ঈদগড়-বাইশারী যেতে চাইলে পুলিশ নিরাপত্তা নিতে হয়। গত সাড়ে তিন মাসে মসজিদের ঈমাম, অটোরিকশাচালক, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ অন্তত ১২ জনকে অপহরণ করা হয়। অধিকাংশরা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন। গত এক দশকে এই সড়কে ডাকাতের গুলিতে নিহত হয়েছেন পুলিশ, শিল্পীসহ অন্তত চারজন। সর্বশেষ গত ২৩ মার্চ ঈদগড় সড়ক থেকে অপহরণ করা হয় দুজন রাবার বাগানের শ্রমিককে। কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তিপণ আদায় করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পূর্বশত্রুতার জের ধরে ইউপি সদস্য রুস্তম আলীকে অপহরণ হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিফাতুল মাজদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ সকালে ঈদগাঁও থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে নিজ বাড়ি ঈদগড়ের করলিয়ামুরা যাওয়ার সময় পানিরছড়া এলাকা থেকে ইউপি সদস্য অপহৃত হন বলে খবর পাওয়া গেছে। এলাকাটি রামু থানার মধ্যে পড়লেও পুলিশ বনাঞ্চলের অভিযান চালাচ্ছে।’
ওসি সিফাতুল মাজদার আরও বলেন, সম্প্রতি এই সড়কে কয়েক দফায় অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। এরপর কিছুদিন ডাকাতি-অপহরণ বন্ধ হয়েছিল। ইউপি সদস্য অপহরণের মধ্য দিয়ে আবার তৎপর দেখাল বনদস্যুরা।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ইউপি সদস্য রুস্তম আলীকে উদ্ধারে পুলিশ বনাঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছে। তবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি। ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির বিষয়ে যে কথা বাজারে আসছে তাও পুলিশের অজানা। ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ভাষ্য, ঈদগড় ঈদগাঁও বাইশারী সড়কটি পাহাড়ের ভেতর দিয়ে তৈরি হয়েছে। দিনের বেলায় সড়কের কয়েকটি পয়েন্টে ঈদগাঁও ও রামু থানার পুলিশের টহল থাকে। রাত ১০টা থেকে ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত সময় টুকুতে কারও জরুরি প্রয়োজন পড়লে পুলিশের নিরাপত্তা প্রয়োজন হয়।
ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খুরশেদ আলম বলেন, সকাল থেকে ইউপি সদস্য রুস্তমকে উদ্ধারে বনাঞ্চলে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। ইউপি সদস্য অপহরণ নিয়ে এলাকায় নানা কথা শোনা যাচ্ছে। অপহরণের নেপথ্যে অন্য কোনো ঘটনা আছে কি না, তার অনুসন্ধান চলছে।