সওজের সংস্কারকাজে কুমিল্লায় ২০ কিলোমিটার যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সংস্কারকাজ, টানা বৃষ্টিতে মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও এক লেন দিয়ে উভয়মুখী যান চলাচলের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে শুক্রবার প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী, পরিবহনশ্রমিক ও অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীরা।
শুক্রবার সকাল থেকেই কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার আমতলী থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পরে তা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। বিকেল ৫টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কোথাও কোথাও যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করেছে।
হাইওয়ে পুলিশ ও সওজ সূত্রে জানা গেছে, আমতলী এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে সংস্কারকাজ চলায় চট্টগ্রামমুখী লেন দিয়ে উভয় দিকের যানবাহন চলাচল করছে। এর সঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে সড়কে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় যান চলাচল আরও ধীর হয়ে পড়ে। এতে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, কিছু চালক যানজট এড়াতে উল্টো পথে চলাচলের চেষ্টা করেন। এতে দুই দিকের যানবাহন মুখোমুখি হয়ে যান চলাচল আরও ব্যাহত হয়। গত দুই দিনে আমতলী এলাকায় অন্তত চারটি মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে যায়। পরে রেকার (দুর্ঘটনাকবলিত, বিকল বা অবৈধভাবে পার্ক করা যানবাহন টেনে নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহৃত বিশেষ যান) দিয়ে সেগুলো সরাতে গিয়ে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে আলেখারচর এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে ছিলেন বাসযাত্রী বশিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার ছুটির দিনেও যদি মহাসড়কে এমন যানজট থাকে, তাহলে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। জরুরি কাজে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। পথে এমন দুর্ভোগে পড়ব, চিন্তাও করিনি।’
মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথের পেটুয়া এলাকা থেকে এক রোগীকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে ছিলেন অ্যাম্বুলেন্সচালক মোশাররফ হোসেন। তাঁর অভিযোগ, ‘রোগী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি। কিন্তু যানজটের কারণে কূলকিনারা পাচ্ছি না। রোগীর স্বজনেরা কান্নাকাটি করছেন। পুলিশের সঙ্গে কয়েকবার কথা বলেছি। তাঁরা বলেছেন, মহাসড়কে সংস্কারকাজ চলায় যানজট তৈরি হয়েছে।’
যানজটে আটকে থাকা ট্রাক ও বাসচালকেরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাতে। এতে জ্বালানি অপচয়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে।
অন্যদিকে যাত্রীরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম এলেই আমতলী এলাকায় একই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটে। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। তাঁদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার করে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করা হোক।
সওজ কুমিল্লার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আদনান ইবনে হাসান দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, গত এক মাসের ভারী বৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সেগুলো ধারাবাহিকভাবে মেরামতের কাজ চলছে। আমতলী এলাকায় ঢাকামুখী লেনে গর্ত বেশি হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। এ কারণে এক পাশ দিয়ে দুই দিকের যান চলাচল করায় সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। মানুষের সাময়িক অসুবিধা হলেও দ্রুত কাজ শেষ করে নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল যানজট নিরসনে কাজ করছে জানিয়ে ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
সামনের দিকে যানবাহন ধীরগতিতে চলায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানান কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম।