বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির জটিলতা নিরসনের দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন

শিক্ষকেরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকলেও পাঠদানসহ সব একাডেমিক কাজ থেকে বিরত আছেন। আজ সকালে তোলাছবি: প্রথম আলো

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবিতে ‘কমপ্লিট একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এতে আজ বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের পাঠদান, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষকেরা কর্মবিরতি পালন করেন। আগের দিন গত সোমবার সন্ধ্যায় এক সভায় ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে থাকার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন ১০২ জন শিক্ষক।

শাটডাউন কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষকেরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকলেও পাঠদানসহ সব একাডেমিক কাজ থেকে বিরত আছেন।

আরও পড়ুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইউম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত। একাধিকবার উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করেও কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়েই আন্দোলনে যেতে হয়েছে।

একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। এমনিতেই শিক্ষকসংকট ও শ্রেণিকক্ষের অভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ বিভাগে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সেশনজট আছে। নতুন করে শাটডাউন পরিস্থিতি শিক্ষাজীবন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী জানান, নানা সংকট ও সেশনজটের কারণে তাঁরা আগে থেকেই হতাশায় ভুগছেন। এ অবস্থায় তাঁরা শিক্ষাজীবন আরও দীর্ঘায়িত হোক, তা চান না। শিক্ষকদের দাবির প্রতি প্রশাসনের সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত বলে মনে করেন তাঁরা।

শিক্ষকদের ভাষ্য, এত দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি, পরীক্ষা, ডিগ্রি প্রদান এবং পদোন্নতিসংক্রান্ত কার্যক্রম একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি নির্দেশনা নতুন জটিলতা সৃষ্টি করেছে।

ইউজিসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আওতায় চাকরি, পেনশন, পদোন্নতি ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিতে হবে। এরপর অনুমোদিত সংবিধির ভিত্তিতেই পদোন্নতি কার্যকর করতে হবে।

শিক্ষকেরা বলছেন, এ নির্দেশনার ফলে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩৫ ও ৩৭ ধারায় উল্লেখিত বিধি ও সংবিধি বাস্তবে অনুমোদিত অবস্থায় নেই। এতে পদোন্নতির পাশাপাশি ভর্তি ও পরীক্ষার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। এ অবস্থায় ‘বিধি-সংবিধিহীন’ একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিতে ফেলতে চান না তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে মাত্র একজন অধ্যাপক রয়েছেন। প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পরও শিক্ষকসংকট প্রকট। প্রতিবছর শিক্ষার্থী ও বিভাগ বাড়লেও পদোন্নতির প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বর্তমানে পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন ৬০ জন শিক্ষক। এর মধ্যে ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৬ জন প্রভাষক।

আরও পড়ুন

শিক্ষকদের দাবি, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরের শেষে পদোন্নতি বোর্ড গঠন করেন। এরপর দুটি সিন্ডিকেট সভা হলেও বোর্ড অনুমোদনের প্রস্তাব তোলা হয়নি। সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভা হয় ৩১ মার্চ।

তবে উপাচার্য মো. তৌফিক আলম বলেন, এ ক্ষেত্রে কারও গাফিলতি আছে বলে তিনি মনে করেন না। শিক্ষকেরা ২০১৫ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অধীন পদোন্নতি চাইছেন, কিন্তু এতে ইউজিসির আপত্তি আছে। ফলে পুরোনো নিয়মে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ নেই।

উপাচার্য আরও বলেন, দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় অভিন্ন নীতিমালা গ্রহণ করেছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো তা করেনি। তিনি শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ না রেখে আলোচনার মাধ্যমে নতুন সংবিধি প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানান। এতে দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন