নেত্রকোনায় ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ানো ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত

ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়াছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ানো লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. মোতাছেম বিল্যাহ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইউপি চেয়ারম্যান জনপ্রতিনিধি হিসেবে সহযোগিতা করার পরিবর্তে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, আদালত চলাকালীন বিরূপ মন্তব্য ও আদালত অবমাননা করেছেন। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে বাধা প্রদান, অসম্মানজনক আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪)(ঘ) ধারায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় একই আইনের ৩৪(১) ধারায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদেও আছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এই এলাকার চেয়ারম্যান। তাই জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ঘটনাটি জানতে গিয়েছিলাম; কিন্তু তাঁরা আমাকে কোনো কিছু বলতেই রাজি না। প্রশাসনের লোক হওয়ায় তাঁরা চেয়ারম্যান তো দূরের কথা, একজন মানুষ হিসেবেও আমাকে মূল্যায়ন করতে চাননি। সাময়িকভাবে বহিষ্কার হওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। এভাবে আমাকে বহিষ্কার করা ন্যায়সংগত মনে করি না। আমার যদি ভুল হয়ে থাকে, তবে আমাকে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করা বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারত। কিন্তু তা না করে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই আমি আদালতের কাছে আইনের আশ্রয় নেব।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলার লেংগুরা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান। এ সময় সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার ছোট ভাই পারভেজ ভূঁইয়া ও বকুল মিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

আদালতের কার্যক্রম চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সাইদুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি উপস্থিত জনতার সামনেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। জানতে চান, ‘কী করছেন এইটা? বলেন আমাকে?’ তখন ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আমি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। মোবাইল কোর্ট আগে শেষ হোক।’ জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ‘স্বাক্ষর করার আগে আমাকে বলেন। আমার ইউনিয়ন এটা। আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আপনি মোবাইল কোর্ট করবেন—আমাকে আগে বলতে হবে।’ ‘কে বলেছে এটা? কোন আইনে আছে?’ ম্যাজিস্ট্রেটের এমন প্রশ্নে সাইদুর বলেন, ‘চেয়ারম্যানের আইনে আছে।’

এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে আজ প্রথম আলোতে ‘ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় ইউপি চেয়ারম্যান বললেন, মোবাইল কোর্ট করলে আগে আমাকে বলতে হবে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।