‘ঘুষের’ ৯১ লাখ টাকার চেকসহ দুদকের হাতে ধরা পড়া নজরুলের বিচার শুরু
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার (এলএ) সাবেক চেইনম্যান (শিকলবাহক) নজরুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
নজরুল ছাড়া অন্য তিন আসামি হলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সাবেক অফিস সহকারী তছলিম উদ্দিন, এলএ শাখার সাবেক সার্ভেয়ার মো. সেলিম ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) মুরাদপুর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক (অপারেশন) ইব্রাহিম মিয়া। তাঁদের মধ্যে নজরুল ও তছলিম জামিনে রয়েছেন এবং ইব্রাহিম পলাতক।
দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, চেকের মাধ্যমে ঘুষ নেওয়ার ঘটনায় দুদকের করা মামলায় সাবেক চেইনম্যান নজরুলসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ধার্য তারিখে সাক্ষ্য শুরু হবে।
দুদক জানায়, ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সাবেক চেইনম্যান (শিকলবাহক) নজরুল ইসলাম ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী তছলিম উদ্দিন নগরের চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সের একটি দোকানে দুদকের হাতে ধরা পড়েন। দোকানটি নজরুলের স্ত্রীর মালিকানাধীন। ওই সময় নজরুলের কাছে ঘুষের নগদ ৮ লাখ ৭ হাজার টাকা ও ঘুষ বাবদ বিভিন্ন জমির মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া ৯১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার চেক পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দুদক মামলা করে। ধরা পড়ার পর নজরুল ও তছলিমকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
সাড়ে চার বছর তদন্ত শেষে দুদক গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর এ মামলার অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্রে নজরুল ও তছলিম ছাড়াও এলএ শাখার সাবেক সার্ভেয়ার মো. সেলিম, ‘দালাল’ নাসির আহমেদ এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) নগরের মুরাদপুর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক (অপারেশন) ইব্রাহিম মিয়াকে আসামি করা হয়। তবে নাসির আহমেদ পরে মারা গেছেন।
দুদক জানায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চেইনম্যান নজরুল ইসলাম ঘুষের টাকা অগ্রিম নিতেন, তা-ও চেকের মাধ্যমে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হয়েও ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা অনেকটা তাঁর হাতের মুঠোয় ছিল। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা নিতে আসা লোকজনকে ঘিরে চলত তাঁর এ ঘুষ-বাণিজ্য। ক্ষতিপূরণের টাকার ১০ থেকে ২০ শতাংশ এবং কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি ঘুষ নেওয়া হতো। সার্ভেয়ার সেলিম ছিলেন নজরুলের সহযোগী।
নজরুলের কোটিপতি স্ত্রী
এদিকে নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, শ্যালিকা কোহিনুর আক্তার, দোকান কর্মচারী জামাল উদ্দিন, শামসুন নাহার চৌধুরীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দুদকের আরেক মামলায় ১৭ জুলাই বিচার শুরু করেছেন আদালত। এ মামলায় নজরুল ও তাঁর স্ত্রীর ১১ কোটি ২১ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা হয়। দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, নজরুল তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের নামে নগরের জিইসি ওআর নিজাম রোড এলাকায় ২ হাজার ৭০ বর্গফুটের ১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি এবং একই এলাকায় ১ হাজার ৬২০ বর্গফুটের ১ কোটি ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকার একটিসহ মোট দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। নজরুলের নামে গ্রামের বাড়ি হাটহাজারীতে রয়েছে ৮২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা দামের একটি তিনতলা বাড়ি। নগরের ষোলশহর এলাকার চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় ৮৫ লাখ টাকা দামের একটি, একই তলায় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার আরেকটি, একই মার্কেটের প্রথম তলায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার আরেকটিসহ তিনটি দোকান রয়েছে নজরুল ও তাঁর স্ত্রীর নামে। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে সাড়ে ২২ লাখ টাকার একটি প্রাইভেট কার রয়েছে।