সিলেটে পাথর লুট ঠেকাতে গিয়ে হামলার শিকার স্বেচ্ছাসেবী, গ্রেপ্তার ২
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের রেলওয়ের রজ্জুপথ (রোপওয়ে) এলাকায় পাথর লুট ঠেকাতে গিয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে হামলার শিকার হন এক স্বেচ্ছাসেবী। হামলাকারীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ ঘটনায় হামলার শিকার ওই স্বেচ্ছাসেবীর বাবা মামলা করেছেন। দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্বেচ্ছাসেবী রাসেল মিয়া (৩০) কোম্পানীগঞ্জের পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের নতুন মেঘেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কোম্পানীগঞ্জের দয়রাবাজার কালীবাড়ি এলাকার শামছুল আলম (২৯) ও চন্দ্রনগর নতুন জীবনপুর গ্রামের বিশ্ব গোস্বামী।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী, নৌকার মাঝি, পর্যটনকেন্দ্রের আলোকচিত্রীদের আয়োজনে রাসেল মিয়ার ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে সাদাপাথর ১০ নম্বর ঘাট এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় তাঁরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে সাদাপাথর ঘাট ও দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর লুট বন্ধ করতে এবং প্রশাসনের জব্দ করা বালু ও পাথর লুট বন্ধ করতে ১৩ জনের স্বেচ্ছাসেবী দলকে দায়িত্ব দেয় প্রশাসন। তাঁদের মধ্যে নৌকার মাঝি, পর্যটনকেন্দ্রের আলোকচিত্রীরাও আছেন। শনিবার বিকেলে তিনজন স্বেচ্ছাসেবী নৌকা নিয়ে রোপওয়ে এলাকায় যান। এ সময় পাথর লুটকারীদের কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর হামলা চালান। এতে রাসেল মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাসেল মিয়ার ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর বাবা আলী হোসেন আজ থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।