পরে মেয়েটির সাহসী ভূমিকায় বিয়ের আয়োজন ভেস্তে যায়। ওসি ছাত্রীটির মাসহ পরিবারের সদস্যদের ডেকে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করতে বলেন। শ্রাবন্তীকে নিয়ে প্রথম আলোতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পড়াশোনার খরচ চালিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন থেকে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে শিক্ষাসহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। স্কুলে যাতায়াতের খরচের বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ মহসীন সহযোগিতা করেন।

মা-বাবার মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটায় শ্রাবন্তীর মায়ের সঙ্গে সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নে নানাবাড়িতে থাকে। তার বাবা ও বড় ভাই থাকেন যশোরে। শ্রাবন্তীর মা বিউটি খাতুন একটি মুড়ির কারখানায় কাজ করেন।

মেয়ের সাফল্যে শ্রাবন্তীর মা বিউটি খাতুন আবেগাপ্লুত। তিনি বলেন, ‘আমার যত কষ্টই হোক, মেয়েকে সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে যা যা করার সবই করা হবে।’

শ্রাবন্তীর এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শ্রাবন্তীর সহপাঠীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘সে নিজের ও প্রতিষ্ঠানের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। মূলত আর্থিক সমস্যার কারণে বাল্যবিবাহ হয়ে থাকে। আবার কখনো সামাজিক কারণেও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে থাকে। যদিও আমাদের দেশে বাল্যবিবাহ সাংবিধানিক ও সামাজকিভাবে একটা অপরাধ। এ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এটি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তবে শ্রাবন্তীর এই সাফল্য ও সাহসী মনোবল অনেক মেয়ের সামনে বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে।’

সবা বাধা পেরিয়ে জিপিএ–৫ প্রাপ্তির পেছনে শিক্ষক আর পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শ্রাবন্তী বলে, ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল ইসলাম ও পৌর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ তাকে বিনা পয়সায় পড়াতেন। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকেরাও সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁদের ভুল বুঝেছেন। এখন তাঁরা সব সময় তাকে উৎসাহ দেন।

শ্রাবন্তী ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হতে চায়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে চায়। শ্রাবন্তী বলে, সে নিজে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেও বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে অনেক মেয়ে সেটা পারছে না। পরিবার ও স্বজনদের সিদ্ধান্তের বিপরীতে নিজের ইচ্ছার কথা বলার সাহস দেখাচ্ছে না। এতে অকালে অনেক সম্ভাবনা ঝরে পড়ছে।