গণপূর্ত বিভাগের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাতুল পাল প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও সক্ষমতার অভাব লক্ষ করা গেছে। এদিকে নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় ঠিকাদার আর কাজ করতে আগ্রহী হননি। গত দুই বছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অসংখ্যবার তাগিদপত্র দেওয়া হলেও কর্ণপাত করেনি। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

 ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিশুদ্ধ ইসলাম প্রচারের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনা থেকে সরকার সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামি সংস্কৃতিকেন্দ্র নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়। ইসলামি বই বিক্রি, ইমাম প্রশিক্ষণ, ইসলামি গবেষণা, হেফজখানা, শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, হজযাত্রীদের নিবন্ধন প্রভৃতি কার্যক্রম মডেল মসজিদ থেকে পরিচালিত হবে। উপজেলা পর্যায়ে ৪০ শতাংশ জায়গার ওপর মসজিদটি হবে তিনতলা। প্রতিটির ব্যয় ধরা হয় ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৪ হাজার টাকা। সখীপুরের মডেল মসজিদটির নির্মাণকাজ পায় কেএসবিএল ও আরএসি নামের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক সারোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দুই বছর ধরে একেবারে কাজ বন্ধ এমন অভিযোগ সত্য নয়। মাস দুই আগেও কাজ চলেছে, তবে এখন বন্ধ। যে ১৮ মাসে কাজ শেষ করার কথা, ওই সময় গণপূর্ত বিভাগ টাকা দিতে পারেনি। ২০২০ সালের দিকে নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যায়। এখন তো সবকিছুরই দ্বিগুণ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় শিডিউল মোতাবেক কাজ করলে কয়েক কোটি টাকা গচ্চা যাবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কার্যাদেশ অনুযায়ী সখীপুরে কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের মে মাসে। কাজের মেয়াদ ছিল ১৮ মাস। শুরু থেকেই ঠিকাদার ধীরগতিতে কাজ শুরু করে। ২০২০ সালের নভেম্বরে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয় মাত্র ২০ ভাগ কাজ। এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অনেকটা অদৃশ্য হয়ে যায়। একদিকে নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের ভয়ে ঠিকাদার গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীদের তাগিদকে পাত্তা দিচ্ছেন না। ফলে ২০২০ সালের শেষ সময় থেকে এখন পর্যন্ত কাজ বন্ধ রয়েছে।

সখীপুর থানা সদর দাখিল মাদ্রাসার সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। এসব প্রক্রিয়ার শেষ করতে আরও যে কত দিন অপেক্ষা করতে হবে, মহান আল্লাহই তা জানেন।’

সখীপুর মডেল মসজিদটি উপজেলা পরিষদের উত্তর পাশে বিআরডিবি কার্যালয় লাগোয়া। গতকাল বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, মাটির নিচের ফাউন্ডেশনের কাজ শেষে একতলার একাংশের ছাদ ঢালাই হয়েছে। বের হয়ে থাকা রডে মরিচা পড়েছে। ভবনের খুঁটিতে শেওলা ও আগাছা জন্মেছে। সেখানে কথা হয় সখীপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারীর দায়িত্বে থাকা মাকসুদুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, তিনতলাবিশিষ্ট মসজিদের নিচতলার আয়তন হবে ১২ হাজার বর্গফুট। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার আয়তন ৭ হাজার ৮০০ বর্গফুট করে। বহুদিন ধরে ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে গেছেন। খোঁজখবর নেওয়ার জন্য কেউ আর এখন আসেন না। প্রতিদিন তাঁকে মুসল্লিদের কথা শুনতে হয়। কবে যে মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ হবে তা আল্লাই জানেন।

গণপূর্ত বিভাগের টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ১৫-২০ ভাগ কাজ শেষ হওয়ার পর দুই বছরেও ঠিকাদারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ঠিকাদারকে বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সখীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. বাছেদ সিকদার বলেন, শুরু থেকেই যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এই মসজিদে নামাজ পড়তে কম করে হলেও মুসল্লিদের আরও ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।