‘ছেলের মরা মুখটা শেষবারের মতো দেখতে চাই’

নিহত রবিউল হোসেন (২৬)ছবি: স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত

অনটনের সংসারে বেড়ে উঠেছিলেন রবিউল হোসেন (২৬)। মা-বাবা ও ভাইবোনের মুখে হাসি ফোটাতে তিন বছর আগে পাড়ি দেন সৌদি আরবে। তবে তাঁর এ স্বপ্ন পূরণ হয়নি। গত শুক্রবার সৌদি আরবের তায়েফে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

রবিউল হোসেন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের মুহিব্বুল্লাহ খান বাড়ীর মোহাম্মদ সোলাইমানের বড় ছেলে। সোলাইমানের দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে রবিউল সবার বড়।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এলাকার বিভিন্নজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে রবিউলকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। পরে ২০২৪ সালে তিনি সেখানে পিকআপচালকের চাকরি নেন। শুক্রবার সকালে নির্মাণসামগ্রী নিয়ে পিকআপে তিনি রিয়াদ থেকে তায়েফ শহরে যান। সেখানেই দুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত রবিউলের চাচা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই কৃষিকাজ করে সংসার চালায়। সংসারের অভাব ঘোচাতে তিন বছর আগে বড় ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠান। অভাবমোচন দূরের কথা, ধারদেনা শোধ করার আগেই ছেলেটি মারা গেল।’

দেলোয়ার হোসেনের দাবি, রবিউলের মরদেহ তায়েফের রাবুক নামের একটি হাসপাতালের রাখা হয়েছে। হজের কারণে সড়ক যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে। তাই তাঁদের স্বজনেরা সেখানে পৌঁছে লাশ আনার চেষ্টা করলেও আইনগত জটিলতায় পড়ছেন। তাঁরা রবিউলের লাশ দেশে আনতে চান।

নিহত রবিউলের বাবা মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘আমার ছেলে মারা গেল। আমাদের জানানো হচ্ছে, ছেলেকে সেখানে দাফন করা হবে। আমি আমার ছেলের মরা মুখটা শেষবারের মতো দেখতে চাই। শুনেছি, লাশ দেশে আনতে বাংলাদেশ থেকে চার লাখ টাকা পাঠাতে হবে। আমি এত টাকা কোথায় পাব?’