কেউ যেন জাল ব্যালট বাক্সে ফেলতে না পারে, চুয়াডাঙ্গার রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশনা

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষেছবি: প্রথম আলো

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, মাঠে একটি আওয়াজ আছে যে জাল মার্কিং সিল, জাল ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে। তাই কোনো ভোটার যাতে জাল ব্যালট সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে ভোটের বাক্সে ফেলতে না পারে, ওইটা মাথায় রেখেই ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমন মন্তব্য করেন। তিনি এ সময় বলেন, ব্যালট বাক্সটা থাকবে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রিসাইডিং অফিসারের সামনে। যেন কেউ দেখলে মনে হয়, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রিসাইডিং অফিসার ব্যালট বাক্সটি পাহারা দিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া আছে যে ইচ্ছা করে কেউ ভেজাল করার চিন্তা নিয়েছে তো তাকে অ্যারেস্ট করে ফেলা হবে।

মতবিনিময়কালে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে সার্বিক প্রস্তুতির দিকসমূহ তুলে ধরেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী উপকরণসমূহ কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই আছে। যেকোনো আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। সেগুলোকে আমলে নিয়ে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। আশ্বস্ত করতে চাই, নিরাপত্তার দিক থেকে পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক জানান, ভোটের আগের দিন বেলা ১১টা থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সরবরাহ শুরু হবে। ভোটের সরঞ্জাম নিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা যাতে কোনো শঙ্কার মধ্যে না পড়েন। ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ভোটাররা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে, ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন এবং ভোট দিয়ে বাড়িতে ফিরবেন।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, ২টি আসনের সর্বমোট কেন্দ্র ৩৫৪টি। সবগুলো কেন্দ্রকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। কোনো কেন্দ্রকেই মনে করছেন না যে এটা কম গুরুত্বপূর্ণ। ভোটার ও ভোটের নিরাপত্তায় দুটি আসনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি ১০ প্লাটুন বিজিবি ও ৯ প্লাটুন সেনাবাহিনী এবং ৪ উপজেলায় র‍্যাব ও আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যদের ৪টি করে দল কাজ করবে। প্রতিটি প্লাটুনের সঙ্গে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। এ জন্য ১৬ জনকে নিযুক্ত করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘সাধারণ বা মাঝারি ঘটনা ঘটলে সেনাবাহিনী–বিজিবিকে মুভ করাব না। পুলিশের পক্ষ থেকে দুই-তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা আছে। তারা সমাধান করবে। তারা সমাধান করতে ব্যর্থ হলে এই ফোর্সগুলো সেখানে মুভ করবে। লেটেস্ট তথ্যের ভিত্তিতে মুভ করবে।’

ইটভাটা বন্ধ থাকবে ৫ দিন

এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে জেলার সব ইটভাটা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন আজ সোমবার এক অফিস আদেশে জেলার সব ইটভাটামালিকদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সব ইটভাটামালিককে নির্বাচনকালীন সময়ে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইটভাটা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে অনুরোধ করা হলো। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে প্রতিটি ইটভাটায় দুজন করে নিরাপত্তাপ্রহরী ব্যতীত অন্য কোনো শ্রমিক-কর্মচারী অবস্থান করতে পারবেন না। উক্ত আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর আছে, নির্বাচনকালীন সময়ে বহিরাগত ব্যক্তিরা শ্রমিক পরিচয়ে ভাটাতে অবস্থান এবং অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকতে পারে। এ জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি খাজা নাসির উদ্দিন প্রথম আলোকে জানান, সরকারি আদেশটি ইতিমধ্যে সব ইটভাটামালিককে অবহিত করা হয়েছে।