‘কানতে কানতে চোখের পানিও শেষ, তবু ছেলেডার খোঁজ নাই’

সৌদি আরবে নিখোঁজ চাঁদপুর মতলব উত্তর উপজেলার তরুণ মো. শিহাদ হোসেনছবি: পরিবারের সৌজন্যে

দেড় বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান মো. শিহাদ হোসেন (২২)। দেশটির রাজধানী রিয়াদের আজিজিয়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকা শুরু করেন তিনি। সেখানে ট্যাক্সি চালিয়ে উপার্জন করেন তিনি। গত রোববার গভীর রাতে তাঁর মুঠোফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে একটি কল আসে। পুলিশের পরিচয় দিয়ে তাঁকে জরুরিভাবে বাসার সামনে যেতে বলা হয়। তিনি সেখানে যান। এর পর থেকে ছয় দিন ধরে তাঁর সন্ধান মিলছে না। তাঁর মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ।

এ ঘটনায় ওই এলাকার পুলিশ স্টেশনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শিহাদ হোসেনের বাবা, যিনি নিজেও সৌদিপ্রবাসী। স্বজনদের আশঙ্কা, দুর্বৃত্তরা শিহাদকে হত্যা বা অপহরণ করতে পারে।

শিহাদ হোসেনের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মান্দারতলী গ্রামে। ওই গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেন ও রেখা বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে তিনি।

মো. শিহাদ হোসেনের খালাতো ভাই ও মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. হাবিব বলেন, রিয়াদের আজিজিয়া এলাকায় একটি ভাড়া করা বাসায় কয়েকজন মিলে থাকেন শিহাদ। ভাড়ায় ট্যাক্সি চালিয়ে মাসে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা আয় করেন তিনি। সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন বাংলাদেশি বন্ধুর সঙ্গে তাঁর বনিবনা হচ্ছিল না। কয়েক দিন আগে তাঁদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাঁর দ্বন্দ্ব ও শত্রুতা তৈরি হয়। তাঁকে ‘দেখে নেওয়ারও’ হুমকি দেন তাঁরা। বিষয়টি শিহাদ তাঁকেসহ (মো. হাবিব) তাঁর বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যকেও জানিয়েছেন।

শিহাদের মা রেখা বেগম বলেন, ‘রুজির জন্য ছেলেডারে বিদেশ পাডাইলাম। প্রায় পাঁচ দিন ধইরা ছেলেডার খোঁজ পাইতাছি না। সে কি বাঁইচা আছে না মইরা গেছে, তা-ও জানি না। ছেলেই আমার সব। তারে না পাইলে আমি বাঁচুম ক্যামনে। ছেলের চিন্তায় একটা রাইতও ঘুমাইতে পারি না। কানতে কানতে চোখের পানিও শেষ। তবু ছেলেডার খোঁজ নাই।’