বাজারে এল রাজশাহীর গুটি আম, মণ ১ হাজার ৩২০ টাকা

রাজশাহীর বানেশ্বর হাটে উঠেছে বিভিন্ন জাতের গুটি আম। শুক্রবার বানেশ্বর হাটেছবি: শহীদুল ইসলাম

রাজশাহীতে আজ শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরু হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বাজারে উঠেছে গুটি আম। জেলার সবচেয়ে বড় আমের বাজার পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারে প্রথম দিনে চারটি ভটভটিতে এই আম আসে। এর মধ্যে দুই গাড়িতে ছিল গাছে পাকা আম। অন্যগুলো আচারের কারখানার জন্য আনা হয়। প্রথম দিনে গাছপাকা গুটি আমের দাম ছিল ১ হাজার ৩২০ টাকা মণ।

বানেশ্বর বাজারের আমের আড়তগুলো এখনো চালু হয়নি। দুই থেকে চার আড়তদার খুলে বসেছেন। তাঁরা মূলত আড্ডা দিচ্ছেন। অল্প কয়েকটিতে আম কেনাবেচা চলছে। তার মধ্যে আচার তৈরির কাঁচা আমই ছিল বেশি।

নামাজ গ্রামের গোলাম মোস্তফা গুটি আম নিয়ে বাজারে এসেছিলেন। তিনি ১ হাজার ৩২০ টাকা মণে এই আম বিক্রি করেন। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আমের ক্রেটের ওপরে অর্ধেক কাটা একটি পাকা আম রাখেন তিনি। অনেকে সেই আমের স্বাদ নিয়ে দেখছেন। কলি মাহমুদ নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী স্বাদ নিয়ে বলেন, ‘আমটি মোটামুটি মিষ্টি।’

পুঠিয়ার ছত্রগাছা গ্রামের আরেক চাষি গুটি আম এনেছিলেন। আমগুলো রানিপসন্দ আমের গুটি। গাছে ১০ থেকে ১২টি পাকা আম দেখেছেন তিনি। আনোয়ার হোসেন নামের এক আড়তদার সেই আম ১ হাজার ৩২০ টাকা মণে কিনে নিলেন। তিনি বলেন, এই আম তিনি ঢাকায় পাঠাবেন।

পুঠিয়া উপজেলার জতরঘু গ্রামের সাগরের বাগানে গুটি আম পাড়া হয়েছে। তাঁরাও সেই আম ঢাকায় পাঠাবেন। আর বাঘার আমচাষি ও ব্যবসায়ী আসাফুদ্দৌলা বলেন, তাঁদের চরুষা জাতের গুটি আম পাকতে শুরু করেছে। ঢাকার ব্যবসায়ীদের জন্য আজ তাঁরা তিন ক্রেট আম পাঠাচ্ছেন। মগডাল থেকে বেছে বেছে আম পেড়েছেন। তিনি বলেন, ঢাকায় তাঁরা এই আমের ভালো দাম পাবেন। এখনই তাঁদের চরুষা আম ১০০ টাকা কেজি দাম ধরে পাঠাচ্ছেন।

এদিকে জেলার চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছি জায়গীরপাড়ার একটি বাগানে গুটি আম পাড়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় (চারঘাট–বাঘা) সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ। তিনি বলেন, কেউ যাতে অপরিপক্ব আম না পাড়েন, সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁরা সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদেশে রপ্তানিযোগ্য আম যাতে উৎপাদন করা যায়, সে জন্য তাঁরা চেষ্টা করছেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বানেশ্বর হাট এবার ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ডাক হয়েছে। এর মধ্যে আমের হাটও আছে। ইজারাদারের অংশীদার ওসমান আলী বলেন, তাঁরা সরকারি ঘোষণা মোতাবেক মাইকিং করে জানিয়ে দিয়েছেন, আজ থেকে শুধু পাকা গুটি আম বাজারে আসবে। অপরিপক্ব অন্য আম বাজারে আনলে জরিমানা করা হবে। কিন্তু গুটি আমের বেশির ভাগই স্থানীয় লোকজন খায় না। এটা মূলত আচার ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যান। আজ প্রথম দিনে বাজারে আচারের আমই বেশি ছিল।