রংপুরে আকাশ কালো করে নামল বৃষ্টি

রংপুরে সকাল থেকে বৃষ্টি। ছাতা মাথায় স্কুলে যাচ্ছে তিন শিক্ষার্থী। ছবিটি রংপুর জিলা স্কুল চত্বর থেকে তোলা
ছবি: প্রথম আলো

রংপুরে আজ বুধবার সকাল ১০টায় আকাশ অন্য দিনের মতো ছিল না। আকাশ কালো করে নেমে আসে বৃষ্টি। সড়কে যানবাহন চলাচল কমে যায়। তবে এর মধ্যেই যে যাঁর কাজে গেছেন।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল হাসান বলেন, রংপুরে এখন মৌসুমি হাওয়া বেশ সক্রিয়। আজ দিনভর আকাশ মেঘলা থাকবে। বৃষ্টি হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ১৮ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া সোম ও রোববার—এই দুই দিনে ২২৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে রংপুরে।

আজ সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন সড়কে ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে তেমন যানবাহন চলাচল করেনি। অল্প কিছু রিকশা ও অটোরিকশা চলছিল। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শহরের কাচারিবাজার এলাকা অন্য সময় জমজমাট থাকলেও আজ তেমন ছিল না। সেখানকার দুই শতাধিক কম্পিউটার কম্পোজ ও ফটোকপির দোকান বন্ধ থাকতে দেখা যায়। রংপুর সরকারি কলেজে যাওয়ার সড়কটি খাঁ খাঁ করছে। টাউন হল চত্বরের সামনে বেশ কয়েকটি চায়ের স্টল অন্য দিন খোলা থাকলেও আজ সেগুলো বন্ধ ছিল।

গঙ্গাচড়ার নবনিদাস এলাকার বাসিন্দা দুলাল রায় শহরের বেতপট্টি এলাকার একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী। শহরের পাকারমাথা এলাকায় তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘হামার গরিব মানুষের ১২ মাসেই কষ্ট। ঝড়-বৃষ্টি হইলেও হামার কামোত যাওয়া লাগবে। কাজোত না গেইলে খামো কী?’

নগরের বাহারকাছনা এলাকার বাসিন্দা নূরুজ্জামান মিয়া একসময় চা পানের দোকান করতেন তাঁর নিজ এলাকায়। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রিবাট্টা একদম কমে যায়। তাই তিনি ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। জমানো টাকা দিয়ে একটি রিকশা কিনেছেন। এখন তিনি রিকশা চালান। তিনি বলেন, ‘বাড়িত পাঁচজন খাওয়াইয়া। আবহাওয়া খারাপ হইলেও রিকশা চালেয়া খাওয়া লাগবে। সকালে ২০০ টাকা আয় হইছে। এই টাকা দিয়া দেড় কেজি চাল, শুঁটকি আর সামান্য সবজি কিনি বাড়ি যামো। আকাশ ভালো হইলে ফির রিকশা নিয়া বের হমো।’

নগরের খাবারের দোকানগুলো খুললেও ক্রেতাদের আনাগোনা কম। তাই বেচাবিক্রিও নেই। একটি চায়ের দোকানের মালিক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে মনে হয় খরচের টাকাই উঠবে না। তার ওপর রয়েছে কর্মচারীদের বেতন।’