মাতামুহুরী নদীতে গোসলে নেমে তলিয়ে দুই কিশোরীর মৃত্যু
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে চোরাবালিতে তলিয়ে দুই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার বিকেল চারটার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারার মৌলভীর চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই কিশোরী হলো মৌলভীর চর গ্রামের জামাল উদ্দিনের মেয়ে মাইমুনা আক্তার (১৪) ও আবদুর রহিমের মেয়ে ইফসা মনি (১১)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে চার কিশোরী মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে যায়। এ সময় মৌলভীর চর এলাকার নদীর ঘাট থেকে কিছুটা সামনে এগোতেই তারা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের মধ্যে দুজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও মাইমুনা আক্তার ও ইফসা মনি নিখোঁজ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে দুই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু ছৈয়দ (৫২) বলেন, মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ দিয়ে হাঁটার সময় তিনি দুই কিশোরীর কান্নার শব্দ শুনতে পান। কাছে গিয়ে জানতে পারেন, তাদের দুই সঙ্গী নদীতে গোসল করতে নেমে চোরাবালিতে তলিয়ে গেছে। পরে তিনি নদীতে নেমে স্থানীয়দের সহায়তায় একে একে দুই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহ দুটি স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাতামুহুরী নদীতে শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে নদীর তলদেশে অসংখ্য গর্ত ও চোরাবালির সৃষ্টি হয়েছে। গোসল করতে নেমে ওই চোরাবালিতে আটকে দুই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মাতামুহুরী নদীতে তলিয়ে দুই কিশোরীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপায়ন দেব বলেন, মাতামুহুরী নদীতে অসংখ্য ড্রেজার ও মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে দুর্বৃত্তরা। প্রতিদিনই নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। যে স্থানের কাছে দুই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে, তার পাশের আমাইন্যারচর এলাকায় সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে দুটি ড্রেজার ধ্বংস করা হয়েছে এবং প্রায় ৯ লাখ টাকার বালু জব্দ করা হয়েছে।
রূপায়ন দেব আরও বলেন, আজ সোমবার বিকেলেও মাতামুহুরী নদীর চারটি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে দুটি শ্যালো মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে এবং দুজনকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।