ব্রাজিলের হারে কেঁদেছিলেন শৈশবে, সেই ব্রাজিলের পতাকায় বাড়ি সাজালেন শিক্ষক
সবুজ-হলুদ রঙে রাঙানো একটি ভবন। দেয়ালজুড়ে সাঁটানো ব্রাজিলের জাতীয় পতাকা। সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি পেলে, রোনালদোসহ বর্তমান তারকা নেইমার, ভিনির ছবি। ছাদে উড়ছে ব্রাজিলের পতাকা। দূর থেকে দেখলে এটিকে ক্রীড়ার কোনো ক্লাব ভেবে ভুলতে করতে পারেন অনেকেই। তবে এটি এক শিক্ষকের বাড়ি।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ আঙ্গারপাড়া এলাকার বড় দাস এলাকায় বাড়িটির অবস্থান। বাড়িটির মালিক শিমুল কান্তি দাস (৩৭)। তিনি উপজেলার দক্ষিণ জগতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তাঁর প্রিয় দল ব্রাজিলের প্রতি সমর্থন থেকেই নিজের বাড়িকে ‘ছোট্ট ব্রাজিল’ হিসেবে সাজিয়েছেন। উপজেলা পরিষদসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত বাড়িটি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেসব ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন।
জানতে চাইলে শিমুল কান্তি দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘শৈশব থেকেই আমি ব্রাজিল দলের সমর্থক। বিশেষ করে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ব্রাজিলের হার আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছিল। সেইবার আমি কেঁদেছিলাম। সেই হারই হয়তো দলটির প্রতি আমার ভালোবাসাকে আরও গভীর করেছে। এরপর ২০০২ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই আবেগ অন্য মাত্রা পায়। আজও সেই ভালোবাসা অটুট রয়েছে।’
রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত বাড়িটি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেসব ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন।
শিমুল কান্তি দাস জানান, বিশ্বকাপ এলেই ব্রাজিলকে ঘিরে তাঁর আলাদা উচ্ছ্বাস কাজ করে। সেই অনুভূতি থেকেই বাড়িটিকে ব্রাজিলের রঙে সাজানোর পরিকল্পনা করেছেন। বাড়ি দেখলেই যেন সবাই বুঝতে পারে তিনি ব্রাজিলের সমর্থক; এটি চেয়েছিলেন। খেলোয়াড়দের ছবি সংযোজন, দেয়ালে নকশা আঁকা, রং করাসহ পুরো কাজে তাঁর ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর চার দিন আগে সাজসজ্জার কাজ শেষ করেছেন। টুর্নামেন্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাড়িটি এভাবেই থাকবে।