গণশুনানিতে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ। তাঁরা পরিবেশদূষণ নিয়ে তাঁদের অভিযোগ, মতামত ও উত্তরণের উপায় নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা করেন। গাজীপুরের মারিয়ালী এলাকার বাসিন্দা ও কলেজশিক্ষার্থী নাঈমা সুলতানা বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন হয়েছে। পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার জন্য কর্তৃপক্ষ কর নিচ্ছে, কিন্তু নগর পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন হচ্ছে না। ময়লা–আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। তাই মানুষ যেখানে–সেখানে ময়লা–আবর্জনা ফেলছে।

গাজীপুরের সালনা এলাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ মৃধা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি শিল্পকারখানার দূষণের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘কারখানাটি ইটিপি ব্যবহার না করে ক্যাম্পাসের ভেতরের নালায় বর্জ্য ছেড়ে দিচ্ছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, কিন্তু অভিযোগ দিয়েও কোনো ফলাফল পাচ্ছি না।’

গাজীপুর মোগরখাল এলাকার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন বলেন, মোগরখালটি আগে ৩০ থেকে ৩৫ ফুট প্রশস্ত ছিল, এখন সেটি দখল হয়ে ১০ থেকে ১২ ফুট হয়েছে। বারবার অভিযোগ করেও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা যায়নি।

দূষণ রোধে বিভিন্ন করণীয় তুলে ধরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, গাজীপুরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদী ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ে আইনের প্রয়োগ সঠিকভাবে করে আসতে পারলে দূষণ দিন দিন কমে আসবে। আজকে যে গণশুনানি হয়েছে, সেখানে সাধারণ মানুষ ও কর্মকর্তারা অনেক মতামত দিয়েছেন। সেসব বিষয় একসঙ্গে করে প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে। পরে এসব প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় দেওয়া হবে, যাতে তারা এসব বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তারপরও যদি সমাধান না হয়, তবে আইনগত অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চলা এই গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান। রিজওয়ানা হাসানের সভাপতিত্বে গণশুনানিতে আরও বক্তব্য দেন ভাষাশহীদ কলেজের অধ্যক্ষ মুকুল কুমার মল্লিক, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের অধ্যাপক অসীম বিভাকর, গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিনা পারভীন, বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনির হোসেন প্রমুখ।

মুহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘আমাদের সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে একটা সমন্বয় থাকতে হবে। যেমন বিআইডব্লিউটিএ একটি অনুষ্ঠান করলে জেলা প্রশাসন জানে না; আবার মৎস্য অফিস কোনো আয়োজন করলে কৃষি বা ডিসি অফিস জানে না। প্রত্যেকের সঙ্গে সমন্বয় থাকলে যেকোনো উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে।’

আনিসুর রহমান বলেন, পরিবেশদূষণ রোধে বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে বিষয়টি জানানো হবে।