শরীয়তপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, বালতিতে করে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনার সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফারণ ঘটানো হয়। এতে ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রাজনগর ইউনিয়নের তালতলা এলাকার সোহেল কাজী ও হাফিজ ভূঁইয়ার সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আজ সোমবার সকালে ওই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। এ সময় দুই পক্ষের ২০টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে। আর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
নড়িয়া থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোহেল কাজী ও হাফিজ ভূঁইয়ার মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গতকাল রোববার বিকেলে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। আজ সকাল সাতটার দিকে দুই পক্ষের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র ও বালতিতে করে ককটেল নিয়ে সমর্থকদের বাড়িতে হামলা শুরু করেন। তখন দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এক পক্ষ আরেক পক্ষের বাড়িতে হামলা করতে থাকে। ঘণ্টাব্যাপী ওই সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের সমর্থকেরা শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।
এতে দুই পক্ষের ১৫ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের ২০টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে সকাল আটটার দিকে ওই এলাকায় অভিযান চালায় নড়িয়া থানার পুলিশ।
ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সোহেল কাজী, হাফিজ ভূঁইয়াসহ তাঁদের পুরুষ সমর্থকেরা পালিয়ে যান। তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁদের পরিবারের নারী সদস্যরা একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়েছেন।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, সোহেল কাজী ও হাফিজ ভূঁইয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই দলের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর তাঁদের মধ্যে ওই বিরোধ আরও বাড়ে। সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষই ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। পুলিশ ওই ককটেলগুলোর উৎস খুঁজছে। আর এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ মামলা করেনি।