গহিন পাহাড়ে পাচারকারীদের কাছে বন্দী থাকা তিনজন উদ্ধার, আটক ১
কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচারকারী চক্রের কাছে বন্দী থাকা তিনজনকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে উপজেলার বড়ইতলী এলাকার গহিন পাহাড় থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় মানব পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়েছে।
উদ্ধার তিনজন হলেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং মরিচ্যার বাসিন্দা মৃত মো. হাসানের ছেলে রবিউল আলম (১৮), একই এলাকার আবদুল গফুরের ছেলে মো. তাজিম (১৮) ও মো. ইব্রাহিম খলিলের ছেলে মো. ইসমাইল (৩০)। এ ঘটনায় আটক রোহিঙ্গা যুবকের নাম মো. সাদেক (২৫)। তিনি উখিয়ার জামতলী আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা।
বিজিবি জানায়, গহিন পাহাড়ে কয়েকজন ব্যক্তিকে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা আটকে রেখেছেন, এমন খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে আটক এবং ওই তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার তিন ব্যক্তিকে সাগরপথে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা চলছিল। মুক্তিপণ না পেলে তাঁদের মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মানব পাচারকারী একটি দলের কাছে বিক্রির হুমকি দেওয়া হয়।
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া তিনজন এবং আটক রোহিঙ্গা যুবককে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, টেকনাফে মানব পাচারের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। চলতি মাসেই অন্তত পাঁচবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অভিযানে আটক হয়েছেন মানব পাচারকারী চক্রের বেশ কিছু সদস্যকে। গত মঙ্গলবার টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়ার গহিন পাহাড় থেকে অপহৃত পাঁচজনকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকেও আটক করা হয়। সোমবার র্যাব ও বিজিবির অভিযানে অস্ত্রসহ তিনজন আটক করা হয়, উদ্ধার করা হয় ৮৪ জন ভুক্তভোগীকে। আবার ১৮ সেপ্টেম্বর কোস্টগার্ড ৬৬ জনকে উদ্ধার করে। ১৬ সেপ্টেম্বর বিজিবি ১২ জন মানব পাচারকারী সদস্যকে আটক ও ১১ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।